বর্তমান সংসদের কেউ ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বর্তমান সংসদে কোনও ঋণখেলাপি সদস্য নেই বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংসদ সদস্যদের কেউ ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, কিন্তু আইনগত অর্থে ঋণখেলাপি নন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পয়েন্ট অব অর্ডারে দেয়া বক্তব্যের জবাবে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রচলিত আইন, বিশেষ করে রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার (আরপিও) এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, আদালত কর্তৃক ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষিত কোনও ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারান। ফলে তিনি সংসদ সদস্য পদে মনোনয়নও পেতে পারেন না।
তিনি বলেন, কেউ নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন, তার অর্থ হলো তিনি আইনগতভাবে ঋণখেলাপি নন। তিনি ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, কিন্তু ঋণখেলাপি নন। তাই বর্তমান সংসদকে ঋণখেলাপিদের সংসদ বলা আইনগত ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মামলা ছিলো, সেগুলোর অনেকগুলোই উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালতের নিষ্পত্তির পর তারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং নির্বাচিত হয়ে সংসদে এসেছেন।
তিনি বলেন, আদালতের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হওয়ার পর কাউকে ঋণখেলাপি বলা যায় না। সুতরাং বর্তমান সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ আখ্যা দেয়া সঠিক নয়, বরং এটি মানহানিকর বক্তব্য। আমার মতে, এ ধরনের মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা উচিত।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন-পূর্ব সময় থেকেই তিনি ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলে আসছেন।
আরও পড়ুন <<>> সংসদে ঋণ খেলাপিদের ‘ঋণখেলাপি’ বলতে না পারলে কোথায় বলবো?
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগেও আমি ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেও অনেক সংসদ সদস্যের ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য ও ঋণের পরিমাণ তুলে ধরেছি। তবে তাদের সম্মানের কথা বিবেচনা করে নাম প্রকাশ করিনি।
তিনি আরও বলেন, যদি সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এটিকে ঋণখেলাপিদের সংসদ বলতে পারে। কারণ সরকার দলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের সংসদে নিয়ে এসেছে বলে জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে।
এ নিয়ে সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, আইনগতভাবে বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন।
সবার দেশ/কেএম




























