বিরোধীদের ওয়াকআউটের মধ্যেই ৩ বিল পাস
বিরোধীদলের তীব্র প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মানবাধিকার সুরক্ষা ও গুম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত এবং অন্যটি পিতা-মাতাকে আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে সন্তানদের সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগসংক্রান্ত।
রোববার রাতে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) বিল ২০২৬’কে দুর্বল আখ্যা দিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।
পরে বিরোধীদের আপত্তির মধ্যেই কণ্ঠভোটে বিল দুটি পাস হয়। এরপর ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়েও আপত্তি জানিয়ে বিরোধীদলের সদস্যরা সাময়িকভাবে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন। এ বিলটিও কণ্ঠভোটে পাস হয়।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে গুমের ঘটনার তদন্তের মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপর দেয়া হয়েছে। সাধারণত উপপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন নির্দিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা মামলা তদন্ত করবেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের ঘটনা সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেয়া হয়েছিলো।
অন্যদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীতে পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে এবং স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে সম্পত্তি দান করলে দাতা জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ব্যবহার ও ভোগদখলের অধিকার বজায় রাখবেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও সম্পত্তি হস্তান্তর বিল পাসের প্রস্তাব আনেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আর গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট সংসদে দুটি মানবাধিকার-সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের সময়ও বিরোধীদল ওয়াকআউট করেছিলো। পরে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনাও বয়কট করে তারা।
সবার দেশ/কেএম




























