ক্যান্টনমেন্টের সাবেক ওসির আ.লীগ সংশ্লিষ্টতা, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, মামলা ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসান। অডিওটি নিয়ে তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে এ তদন্ত পরিচালিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই ঘটনায় সাবেক ওসির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রদ্রোহের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছিলো। পরে তাকে ডিবি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে সম্প্রতি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন থানার ওসি বদলি এবং বিশেষ করে শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহারের প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, শুধু বদলি করাই কি সমস্যার সমাধান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বদলি মূলত প্রশাসনিক ব্যবস্থা। তবে কোনও কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা বা কোনও বিষয়ে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে শুধু বদলিই শেষ পদক্ষেপ নয়। রাষ্ট্রদ্রোহিতা বা অন্য কোনও ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি নিয়মিত মামলায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে তোলা হয়েছিলো। পরে আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে রাকিবুল হাসানের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলা, বিভাগীয় কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফলের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
সবার দেশ/কেএম




























