ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। এ লক্ষ্যে নতুন মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) থেকে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক, মালিক ও সরকারপক্ষ।
একই সঙ্গে কারখানা বন্ধ না রেখে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রম মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা, বিরোধী দলের শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি, বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি, বিজিএমইএর সহসভাপতি এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও অংশ নেন।
বৈঠকে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নতুন মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন শ্রমিক, মালিক ও সরকারপক্ষের প্রতিনিধিরা। বুধবারই বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়াকে তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার উদ্যোগকেও স্বাগত জানান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা। তাদের মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষ নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বৈঠক শেষে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে শিল্পকারখানায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে কারখানা খোলা রাখা এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য মালিকদের অনুরোধ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, নতুন মজুরি নির্ধারণের উদ্যোগ এবং ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শ্রমিক অসন্তোষ কমে আসবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কাজে ফেরা ও কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি পোশাকশিল্পে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
উল্লেখ্য, তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন মজুরি নির্ধারণের দাবি এবং কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক, মালিক ও সরকারপক্ষের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সবার দেশ/কেএম




























