এনসিপি নেতাদের মামলার নিন্দায় জামায়াতের
কোনও সরকারই শেষ সরকার নয়: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বর্তমান সরকারকে অতীত থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও সরকারই শেষ সরকার নয়। অতীতে যাওয়ার খুব বেশি প্রয়োজন নেই, মাত্র দুই বছর আগের ঘটনাগুলোর দিকে তাকালেই শিক্ষা নেয়া সম্ভব।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল-এ হবিগঞ্জে হামলায় গুরুতর আহত আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছ থেকে আলিফের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন জামায়াত আমির। পরে আহত শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
জানা গেছে, আলিফ চৌধুরী ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সক্রিয় সংগঠক এবং স্থানীয় হোমল্যান্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে তার বাঁ চোখে জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আবার কাউকে চোখের দৃষ্টি হারানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে—এটি কোনওভাবেই কাম্য নয়। তিনি হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আর কোনও ধরনের রাজনৈতিক সন্ত্রাস বা দ্বিতীয় কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান মেনে নেবে না।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কারও রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেয়া উচিত অথবা অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইনের আশ্রয় নেয়া উচিত। কিন্তু কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিজের হাতে আইন তুলে নেয়ার অধিকার নেই।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার যদি আইনের রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করে, তাহলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও এনসিপির কর্মসূচিতে মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ পর্যন্ত কেন বাধা দেয়া হলো এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিলো।
এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফোন চুরির মামলার প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, অভিযোগটি ‘হাস্যকর’। তিনি দাবি করেন, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও এ ধরনের বানোয়াট মামলা দেয়া হয়েছিলো। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সে পুরোনো ধারাই আবার অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আলিফ চৌধুরীর প্রকৃত হামলাকারীদের বিচারের পরিবর্তে উল্টো এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধেই পুলিশি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ, শেরেবাংলা নগর উত্তর থানার আমির আবদুল আউয়াল আজম, ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের নেতা হাসান আল বান্না এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজসহ উভয় দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























