Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৪২, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

লংমার্চ পূর্ব সমাবেশে জামায়াত আমির

‘কানেক্টিভিটির নামে দেশকে ইজারা দেয়া চলবে না’

লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি।

‘কানেক্টিভিটির নামে দেশকে ইজারা দেয়া চলবে না’
ছবি: সংগৃহীত

কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেয়া চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে যারা দাসত্ব স্বীকার করেছিলো, তাদের পরিণতি এখন ভোগ করতে হচ্ছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে কেউ পার পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন। কী উদ্দেশ্যে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন এবং কী অর্জন করে ফিরেছেন, তা জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে।

বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনও গোপন সমঝোতা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনগণকে পরিষ্কার ধারণা দেয়ার দাবি জানান তিনি। জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সংযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

সাত দফা দাবিতে লংমার্চ

শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল সাত দফা দাবি আদায়ে লংমার্চ করছে। এর মধ্যে প্রধান দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন। তার ভাষ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে অন্য ছয় দফা দাবির প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমে আসতো।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এসব অনিয়ম বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দলটি জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে জাতিকে হতাশ করেছে। আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেন তিনি।

অন্যান্য নেতারাও সরকারের সমালোচনায়

সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের জমি দখলের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রধানকেই জবাবদিহি করতে হবে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় দেশের সংকট আরও গভীর হচ্ছে। তার অভিযোগ, সরকার বিভিন্নভাবে জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার সাংবিধানিক পদগুলোতে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে চায়। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে এমন সুযোগ সীমিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। লংমার্চের মাধ্যমে জনমত গড়ে উঠছে বলেও দাবি করেন জামায়াতের এ নেতা।

৪২৫ কিলোমিটারের লংমার্চ

সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এই যাত্রায় ১৯টি জেলা অতিক্রম করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গাড়িবহর ঢাকা থেকে হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে কুষ্টিয়ার দিকে যাবে। পথে নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পথসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা বক্তব্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্য নেতারা।

রাজনৈতিক গুরুত্ব

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রশ্নকে সামনে রেখে এ লংমার্চের আয়োজন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং তাদের দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

তাহসিফের মৃত্যু: বাবার মামলা, গ্রেফতার বন্ধু দীপ
কানেক্টিভিটির নামে দেশকে ইজারা দেয়া চলবে না: লংমার্চ পূর্ব সমাবেশে জামায়াত আমির
এইচএসসির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ
‘দুধের মতো ফর্সা শরীর’ মন্তব্যে মুখ খুললেন তামান্না
এলডিসি উত্তরণে তিন বছর সময় পেলো বাংলাদেশ
অনুমতি ছাড়াই আসুন, জুতাসহ ঢুকুন-ইউএনওর উদ্যোগে প্রশংসা
যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসায় নতুন নিয়ম
স্বামীকে ছাড়ানোর আশ্বাসে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবদল নেতা বহিষ্কার
ইনানীতে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাবনা, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণে বাপেক্স
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আসছে চার নতুন সুবিধা
ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ১০ বাংলাদেশি নারী
মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ, যন্ত্রণায় কাটছে ক্রিস্টার দিন
সৌদিগামী ১৫৯ ফ্লাইট বাতিল, দুর্ভোগে ২২ হাজার যাত্রী
পাবনায় বজ্রপাতে প্রাণ গেলো ৬ জনের
পতিত ও নব্য দুই স্বৈরাচারকেই পরাজিত করবো: নাহিদ ইসলাম
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের অবদান নিয়ে সিম্পোজিয়াম
কফির বিল আপনার, সঙ্গ দেবেন জয়া!
মধ্যবর্তী নির্বাচনে চাপে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস