দলের কেউ জড়িত থাকলে শাস্তি
মানিক পসারীর দাফনে বাধা, জামায়াতের তদন্ত কমিটি
পিরোজপুরের মুক্তিযোদ্ধা মানিক পসারীর লাশ দাফনে বাধা দেয়ার ঘটনায় দলের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে দলের কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্যের বরাতে জানা গেছে, পিরোজপুরের ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে দলের কেউ জড়িত থাকলে তাকে শাস্তির আওতায় আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে দলটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং নূরুল ইসলাম বুলবুলকে। তদন্তকাজে সার্বিক সহযোগিতা করতে পিরোজপুর জেলা জামায়াতকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মানিক পসারী একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন। ওই মামলায় তিনি সাক্ষ্যও দেন। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আপিল বিভাগ তার সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। সাজা ভোগরত অবস্থায় ২০২৩ সালের আগস্টে সাঈদীর মৃত্যু হয়।
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলাটি মিথ্যা ছিলো বলে ২০১০ সাল থেকে দাবি করে আসছিলেন জামায়াত ও তার পরিবার। তাদের অভিযোগ, মানিক পসারী প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে দিয়ে মামলা করানো হয়েছিলো। তাদের দাবি, সাক্ষ্য দেয়ার পর পসারীর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গত রোববার পসারীর মৃত্যুর পর তার দাফন ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন—এমন দাবি তুলে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা তার লাশ গার্ড অব অনার দেয়ার বিরোধিতা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, দাফনে নয়, স্থানীয় ব্যক্তিরা গার্ড অব অনার দেয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছিলেন।
তবে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় জামায়াতের কর্মীরা গিয়ে পসারীর দাফনের জন্য খনন করা কবরের মাটি ভরাট করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাতে তার স্ত্রী, বোন ও মেয়ে অন্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের আলোয় সে মাটি সরিয়ে কবর প্রস্তুত করেন। এ ঘটনার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে জামায়াতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্বাহী পরিষদের বিশেষ বৈঠকে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দলটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিরোজপুরে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে সংগঠনের কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত চিত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান। তদন্তে দলের কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
সবার দেশ/কেএম




























