Sobar Desh | সবার দেশ রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:১৪, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬

রংপুরের সমাবেশে জামায়াত আমির

ক্ষমতায় গেলে প্রথম তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে

ক্ষমতায় গেলে প্রথম তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে সবার আগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, নদী জীবিত হলে উত্তরবঙ্গ বাঁচবে, আর তিস্তাকে ঘিরেই উত্তরবঙ্গের জীবন ও অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হবে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে ১০ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে কার ভালো লাগবে, কার লাগবে না—তা নিয়ে জামায়াতের কোনও মাথাব্যথা নেই। জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়, তাহলে উত্তরবঙ্গে প্রথম কোদাল তিস্তা নদীতেই বসানো হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গত ১৭ বছরের শাসনামলকে ফ্যাসিবাদী উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এ সময় বাংলাদেশের মানুষ মানবিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক লুটপাট ও অর্থপাচারের মাধ্যমে একটি শ্রেণি বিদেশে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে তুলেছে, কিন্তু এত কিছুর পরও তারা শান্তি পায়নি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলেম-ওলামাদের হত্যা করা হয়েছে, ভোট দিতে গিয়ে নারী নির্যাতনের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ হত্যা, আহত ও গুমের শিকার হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত ও শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো এবং জামায়াতের ১১ জন শীর্ষ নেতাসহ এক হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, শত শত মানুষকে গুম করে আয়নাঘরে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর শান্তিতে বসবাসের আশা করা হয়েছিলো, কিন্তু সে আশাও পূরণ হয়নি। রংপুরের মানুষ শান্তিপ্রিয় ও অল্পে তুষ্ট হলেও বারবার তাদের হতাশ করা হয়েছে।

ক্ষমতায় গেলে দিনাজপুরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, জামায়াত সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত দল হলেও কখনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি করেনি। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি ভুলভাবে মামলায় জড়ালে তাকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কাউকে ছাড়ানোর নামে চাঁদা বা খাজনা আদায় করা হয়নি।

তিনি বলেন, জামায়াত চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, প্রতারণা ও অসততার বিরুদ্ধে একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায়। যারা মিথ্যা ও হাস্যকর প্রতিশ্রুতি দেবে, জনগণ যেন তাদের লাল কার্ড দেখায়—এ আহ্বানও জানান তিনি।

ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে চারটি ধর্মের মানুষ বসবাস করে এবং আল্লাহর ইচ্ছাতেই সবাই এ দেশে এসেছে। মুসলমানদের দ্বারা অন্য ধর্মের মানুষের কোনো ক্ষতি হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াত বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বা ইরানের মতো রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় না; বরং একটি গর্বিত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াত বেকার ভাতা দিতে চায় না, কারণ এতে বেকারের সংখ্যা বাড়ে। নারী-পুরুষ সবাইকে কাজের সুযোগ দিয়ে মানবসম্পদে পরিণত করাই তাদের লক্ষ্য। যোগ্যতার ভিত্তিতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নারীদের সম্মানজনক কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

জামায়াত আমির আরও বলেন, যারা তাদের সঙ্গে রাজনীতিতে আসতে চান, তাদের তিনটি শর্ত মানতে হবে—দুর্নীতি না করা, বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ না করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং গত ৫৪ বছরের ব্যর্থ ও পচনধরা রাজনীতি পরিহার করা। তিনি বলেন, এ পুরোনো রাজনীতিই দেশকে বারবার পিছিয়ে দিয়েছে।

উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানীতে পরিণত করার ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রয়োজনে উত্তরবঙ্গে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। জামায়াত কাউকে ক্ষতি না করার যে অঙ্গীকার করেছে, তা বাস্তবে প্রমাণ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহার, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

কুয়াকাটায় সড়ক দুর্ঘটনায় পর্যটক নিহত, আহত ৩
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত ৭
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ
পিরোজপুরে গর্ত খুঁড়তে গিয়ে মাটি ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু
দর্শনা সীমান্তে ‘পুশইন’, নারী ও শিশুসহ আটক ১০
লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা
প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনা স্কুলশিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে রাসায়নিক ট্যাংক বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১১
৪০০ টাকায় কেনা চামড়া বিক্রি ১৫০ টাকায়
মে মাসে মব সহিংসতায় সর্বোচ্চ ৩২ মৃত্যু: এমএসএফ
প্রাণনাশের শঙ্কায় ঈদে বাড়ি যাননি এনসিপি নেত্রী বর্ষা
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
জ্বালানি তেলের নতুন দাম, লিটারপ্রতি বাড়লো ৫ টাকা
জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক: মির্জা ফখরুল
দুঃসংবাদ পিছু ছাড়ছেনা জ্যাকলিনের!
সামনে চ্যালেঞ্জিং সময়, দায়িত্বশীল না হলে দেশের ক্ষতি হবে: প্রধানমন্ত্রী
পিএসজির শিরোপা উদযাপন ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে তাণ্ডব
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, ধ্বংসস্তূপের নিচে শতাধিক শিক্ষার্থী