Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:২২, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২২:২৫, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

হাসিনা আমলের বিতর্কিত আমলার চুক্তি বাড়ানোর তোড়জোড়

হাসিনা আমলের বিতর্কিত আমলার চুক্তি বাড়ানোর তোড়জোড়
ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী পলাতক হাসিনার সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা আমলাদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও তাদের কেউ কেউ এখনও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের চাকরির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামীকাল তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে থাকা একজন কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে তার অতীতের প্রশাসনিক ভূমিকা, বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান কর্মদক্ষতা নিয়ে মূল্যায়নের দাবি উঠছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সময় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে আসছে।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিভিন্ন চুক্তি, দায়মুক্তি আইন এবং জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিলো। এসব সিদ্ধান্তের আর্থিক প্রভাব, স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী নসরুল হামিদের দায়িত্ব পালনকালে জ্বালানি খাতে বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ লোপাটের অভিযোগও আলোচনায় ছিলো। সে সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ভূমিকা কতটা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পরবর্তী সময়ে খায়রুজ্জামান মজুমদার অর্থ সচিবের দায়িত্ব পান। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ভারতে পলাতক হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

সচিবালয়ের বিতর্ক থেকে নতুন করে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সচিবালয়কেন্দ্রিক কথিত ‘ক্যু’ কিংবা প্রশাসনের অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্রের আলোচনা সামনে এসেছিলো। সে সময় কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। বর্তমান অর্থ সচিবের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা থাকলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী ধরনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পর্যালোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।

সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে নিরপেক্ষতা, পেশাদারত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিলো। কিন্তু বিগত সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল থাকলে প্রশাসনিক সংস্কারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের রাজনৈতিক পরিচয় বা কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগকে একমাত্র বিবেচনা না করে তার দায়িত্ব পালনকালে নেয়া সিদ্ধান্ত, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা এবং অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।

ব্যাংক খাতে আওয়ামী লীগপন্থী সংগঠনের প্রভাবের অভিযোগ

ব্যাংক খাতে বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের প্রভাব নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদ, স্বাধীনতা ব্যাংকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রাজনৈতিক বলয় তৈরি এবং নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কিছু কর্মকর্তা ব্যাংক খাতে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে অনিয়ম ও আর্থিক সুবিধা নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমান বিএনপি সরকারের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেয়া কিছু কর্মকর্তাও পদোন্নতি পাচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ সচিবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

পে-স্কেল ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন, গেজেট প্রকাশে বিলম্ব এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে অর্থ সচিবের সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার ব্যাখ্যা দেয়া প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, খায়রুজ্জামান মজুমদার নিজের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরির পেছনেও তার ভূমিকা রয়েছে। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কেবল সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনা বা বেতন-ভাতা নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যাংকিং খাত, সরকারি অর্থের ব্যবহার, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণেও এ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ বা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।

চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর ভিত্তি কী?

প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতা এবং বিশেষায়িত দক্ষতার কারণে কোনো কর্মকর্তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের পেছনে সুস্পষ্ট যুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন এবং কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন থাকা জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীতের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে সেগুলো যাচাইয়ের বিষয়টিও উপেক্ষা করা উচিত নয়।

প্রশ্ন হলো, যে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় জুলাইয়ে এত মানুষ জীবন দিয়েছেন, সে পরিবর্তনের পরও বিগত সরকারের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ আমলারা কীভাবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বহাল থাকছেন? তাদের ভূমিকা, সিদ্ধান্ত ও দায়বদ্ধতা কি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে?

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও প্রশাসনে পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিলো, তার অন্যতম লক্ষ্য ছিলো জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। সে প্রেক্ষাপটে বিগত সরকারের সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়ে কী মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাইয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং বর্তমান দায়িত্ব পালনে তারা কতটা দক্ষতা দেখিয়েছেন—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের চাকরির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ জনসমক্ষে ব্যাখ্যা করা হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তার অতীতের প্রশাসনিক ভূমিকা, বর্তমান কর্মদক্ষতা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে। অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে, আর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হলে সে সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা ও জনস্বার্থের যুক্তি স্পষ্ট করা হবে। প্রশাসনিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

হাসিনা আমলের বিতর্কিত আমলার চুক্তি বাড়ানোর তোড়জোড়
মেঘনায় ভাসমান রেস্টুরেন্টে এসএসসি ’৯৭ ব্যাচের স্মৃতির মেলা
ভালোবাসার আলিঙ্গনেই ভাঙলো স্ত্রীর ৫ পাঁজর!
আসিফের গাড়িতে গুলি, সিজেএফডির নিন্দা
কানাডায় ভিসা জালিয়াতি, অভিযুক্ত ৫ বাংলাদেশি
আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি
কক্সবাজারে হোটেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে, রক্ষা পেলেন ৩০০ পর্যটক
দ্বিতীয় দিনও বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট
সাজেক খুলতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ব্যবসায়ীদের
নালার কাজেও চাঁদাবাজি, বাড়িপ্রতি ৫০ হাজার টাকা
ভারতের এসবিআইয়ে সাইবার হামলা, তথ্য চুরির দাবি
সাজেকে গোলাগুলির পর আতঙ্ক, পর্যটনে ধস
মোদি-তারেকের বৈঠক ঘিরে আলোচনা, অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক সূচির
চুমুর দৃশ্যে ‘নিয়ন্ত্রণ’ হারালেন অভিনেতা, অস্বস্তিতে অভিনেত্রী
যশোরে আইনজীবী সহকারী পরিচয়দানকারী ইয়াবাসহ আটক
৮১ বছরে জাতিসংঘ: মানবতার প্রত্যাশা পূরণে কতটা সক্ষম?
কক্সবাজারে হোটেলে আগুন, সৈকতে ছুটলেন ৩০০ পর্যটক
কোরআনের আয়াত তুলে মুসলিমবিদ্বেষের নিন্দা বিল ক্লিনটনের
আল-আকসার খতিবকে আটক করলো ইসরায়েল