Sobar Desh | সবার দেশ স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:২০, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২০:২২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্রদলনেতা হত্যায় দণ্ডিতরাও যুবদলের কমিটিতে, বিতর্কিত অর্ধশতাধিক

ঢাবি-জবি-শাবিপ্রবি ছাত্রদলের ৩ নেতা হত্যার আসামি কমিটিতে। নিষ্ক্রিয়-অপরিচিতরা সভাপতি-সম্পাদকের কাছের লোক চাঁদাবাজ-মাদককারবারি। বিএনপি চেয়ারম্যানকে কটূক্তিকারীরাও কমিটিতে। ‘অঞ্চল রাজনীতির প্রভাবে’ রাখা হয়নি সাংস্কৃতিক সম্পাদকের পদ। মাঠে পদবঞ্চিত নেতারা।

ছাত্রদলনেতা হত্যায় দণ্ডিতরাও যুবদলের কমিটিতে, বিতর্কিত অর্ধশতাধিক
ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সহযোগী সংগঠন যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ও সমালোচনা রয়েছে। ১৫১ সদস্যের এ কমিটির এক-তৃতীয়াংশের বেশি নেতাকর্মীকে নিয়েই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কমিটিতে এমন তিনজনকে পদায়ন করা হয়েছে যারা বিগত সময়ে ছাত্রদলের তিনজন নেতাকে হত্যায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও অভিযুক্ত। 

এ ঘটনায় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে তৃণমূলেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। ছাত্রদল নেতাদের খুনে অভিযুক্ত তিনজনের সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে উঠে আসে বিতর্কিত আরও অর্ধশতাধিক নেতার নাম।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের ছয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় ২৩ মাস পর গত ৪ জুন ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। যুবদলের একাধিক নেতার অভিযোগ, ৫ আগস্টের পরে অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিতে পারা বর্তমান শীর্ষ নেতাদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা।

যুবদলের বর্তমান পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা বিশ্লেষণ ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কমিটিতে থাকা অন্তত ৫১ জন রয়েছে নিষ্ক্রিয় ও অচেনা মুখ। এদের মধ্যে চাঁদাবাজি, মাদকের সঙ্গে যুক্ত, বৈরী রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্তা। এমন রয়েছেন অন্তত ১২ জন। আবার তারা সবাই বর্তমান কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নের কাছের লোক। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত এসব নেতার অনেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন, দামি উপহার প্রদান এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের তদবিরে পদায়িত হয়েছেন।

অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সময়ে জেল-জুলুম ও নিপীড়নের শিকার এবং দীর্ঘদিন সামনে থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাদের বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে । এসব কারণে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সেটিকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। এ ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দীর্ঘদিনের রাজপথে থাকা এসব নেতারা।

এমন নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত নেতাদের পদায়ন প্রসঙ্গে গত ৫ জুলাই যুবদলের কেন্দ্রীয় জরুরি সভায় ব্যাপক হট্টগোল ও সভা পণ্ড হয়ে যায়। সূত্র জানায়, সদ্য ঘোষিত কমিটিতে বিতর্কিতদের দায় একজন আরেকজনের ওপর চাপানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। এ নিয়ে চরম হট্টগোল সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নও নিজেদের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তাদের কথাবার্তা 'তুই-তুকারির' পর্যায়ে চলে যায়।

ছাত্রদলের ৩ নেতা হত্যাকাণ্ডের দাগি আসামিদের পদায়ন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুবদলের বর্তমান কমিটিতে এমন তিনজনকে পদায়ন করা হয়েছে যারা ছাত্রদলের তিন নেতাকে হত্যার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত। তারা হলেন বর্তমান কমিটির ১ নম্বর সহসভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আতিক আল হাসান মিন্টু ও মঈনুদ্দীন রুবেল । এর মধ্যে জিয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রনেতা খন্দকার ওয়ারেশ আহমেদ হেলাল হত্যায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। মিন্টু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্রদলনেতা খোকন হত্যার আসামি এবং মঈনুদ্দীন রুবেল সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী লিটনের খুনের আসামি।

সে সময়ের পত্র-পত্রিকার খবর বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, জিয়াউর রহমান জিয়ার নেতৃত্বে বশির, জিতু, পাতলা শামীম গং জবি ছাত্রদলনেতা হেলালকে ১৯৯৮ সালের ৬ অক্টোবর অপহরণ করে পুরান ঢাকার কোর্ট কাচারির বিপরীতে হোটেল সার্কে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে । পরে তার লাশ আশুলিয়ায় ফেলে দেয়া হয়। ৮ অক্টোবর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১১ অক্টোবর হেলালের বড় ভাই খন্দকার বেলাল বাদি হয়ে ধানমণ্ডি থানায় মামলা করেন। ২০০৭সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান জিয়াসহ ছয়জনকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সে মামলায় দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর পুলিশের হাতে ধরা পড়ে জিয়া প্রায় আট বছর জেল খেটে জামিনে বের হন। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান জানতে জিয়াউর রহমান জিয়াকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে এক-এগারোর সময় (২০০৭ সাল) ঢাবির জহুরুল হক হলের ছাত্রদলনেতা খোকন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন মিন্টু। সে সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন ছাত্রদলের এমন একাধিক নেতা ‘সবার দেশ’কে জানান, সে সময় মিন্টু ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন শাহাবুদ্দিন লাল্টু গ্রুপের অনুসারী ছিলেন। আর খোকন ছিলেন ঢাবি শাখা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান আলিমের অনুসারী। অন্তকোন্দলের জেরে হলে খোকনকে পিটিয়ে আহত করেন মিন্টু, সুমন, জুয়েলসহ লাল্টুর অনুসারীরা। পরে একটি ভ্যানে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় হল থেকে নিয়ে আসা একটি শাবল খোকনের মাথায় ঢুকিয়ে দেন মিন্টু। সেখানেই তিনি মারা যান। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় মিন্টু, সুমন ও জুয়েলসহ আরও অনেকেই আসামি হন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আতিক আল হাসান মিন্টু বলেন, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অনেক সময় অন্যকে হেয় করার জন্য ডিসপিউট দিতে হয়, সমালোচনা করার জন্য বা কমিটিকে হেয় করার জন্য কিছু বলতে হয়া। এমন উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হয়ে থাকতে পারে।

বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন রুবেলের প্রকৃত নাম মঈন আলদীন বিন নাসির রুবেল ওরফে ‘কালা রুবেল’। পত্রপত্রিকার খবর থেকে জানা গেছে, রুবেল শাবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। ২০০৫ সালের ১৪ এপ্রিলে তার নেতৃত্বে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী লিটনকে হত্যা করা হয়। সে মামলায় রুবেল ১ নম্বর আসামি। সে সময় তাকে দল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। সে বহিষ্কারাদেশ এখনো বহাল আছে। তবে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তিনি মঈনুদ্দিন রুবেল নাম ধারণ করে ঢাকায় এসে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে রাজনীতি শুরু করেন এবং গত কমিটিতে ক্রীড়া সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়ে বর্তমানে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। দলের বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকাবস্থায় একজন দাগি আসামিকে যুগ্ম সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ন পদ দেয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ দিকে অতীতের ইতিহাসকে পাশ কাটাতে একেক সময় রুবেলকে একেক নাম ব্যবহার করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে বিগত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ২০২৬ সালের পরিচালনা পরিষদ নির্বাচনে বরিশাল জেলার কাউন্সিলর ছিলেন রুবেল। তবে সেখানে তার নাম লেখা হয়েছে মঈনুদ্দীন নাসির, যা তার মূল নাম থেকে ভিন্ন। এসব বিষয়ের প্রমাণাদি এ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মঈনুদ্দীন রুবেল মন্তব্য করতে রাজি হননি। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যই তার বক্তব্য বলে জানান তিনি।

১৫১ সদস্যের অর্ধশতাধিকই বিতর্কিত খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুবদলের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় অর্ধশতাধিক নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বৈরী রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, বিতর্কিত এসব নেতার অনেকে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আর্থিক লেনদেন, দামি উপহার প্রদান এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের তদবিরে পদায়িত হয়েছেন। এমনকি বিএনপি চেয়ারম্যান কে কটূক্তিকারীও কমিটিতে পদায়িত হয়েছেন।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক বর্তমান বেশ কয়েক জন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সহ-সভাপতিদের মধ্যে সাইদুর রহমান এক-এগারোর সময় থেকে রাজনীতিতে অনুপস্থিত। তিনি যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর কাছের লোক হিসেবে গত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেও কোনও আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেননি। অপর সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ দিপু গত কমিটিতে (টুকু-মুন্না) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেও কর্মসূচিতে না থেকে আন্দোলনকারীদের ব্যঙ্গ করে কথা বলতেন। তিনি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়েও কটূক্তি করতেন। তবে তিনি বর্তমান সভাপতি আবুদল মোনায়েম মুন্নার অর্থের যোগানদাতা হিসেবেই পরিচিতি।

আরেক সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার ২০০৭ সালে বিদেশে পাড়ি দেন। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ সম্পাদক নয়নের বন্ধু হওয়ায় ২০২২ সালে দেশে এসে গত কমিটিতে সদস্য পদ লাভকরেন। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রামে তার ন্যূনতম অংশগ্রহণও ছিলো না। এ ছাড়া তিনি একজন আদম ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে।

কমিটির সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটো এক-এগারোর সময় ছাত্রদলের সংস্কারপন্থিদের গ্যাংলিডার ছিলেন। তার সহযোগী ছিলেন সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মুন্না ও তরিকুল ইসলাম টিটু। তাদের নেতৃত্বে সংস্কারপন্থিরা তালা ভেঙে নয়াপল্টনের পার্টি অফিস দখল করেছিলো। সে ঘটনা এখনও সবার মুখে মুখে। এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে মাদকসেবনের অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে টিটো ও মুন্না প্রায় এক যুগ কোনও পদে ছিলেন না।

সহ-সভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ রয়েছে। গত কমিটিতে থেকেও কোনও আন্দালনে তিনি অংশ নেননি। সাধারণ সম্পাদকের ব্যক্তিগত ক্যাশিয়ার হিসেবে তিনি সংগঠনে পরিচিত। আরেক সহ-সভাপতি মাহমুদুস সালেহীন বিগত কমিটির সদস্য পদ থেকে সহ-সভাপতি হয়েছেন। রাজনীতিতে অপরিচিত, আন্দোলন সংগ্রামেও খুব একটা দেখা যায়নি । নিয়ম লঙ্ঘন করে তাকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরেক সহসভাপতি আতিকুর রহমান আতিক আদম ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। গত একযুগ আন্দোলন-সংগ্রামে তার অংশগ্রহণও ছিলো না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বায়রা অফিস দখল করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদম ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর গাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে এম কামরুজ্জামান প্রায় দশ বছর নিষ্ক্রিয়। গত কমিটিতে সহসাধারণ সম্পাদক পদে থাকলেও একদিনের জন্যও কোনও আন্দোলন সংগ্রামে তাকে পাওয়া যায়নি। সভাপতি মুন্নাকে দামি মোবাইল ফোন গিফট দিয়ে পদায়িত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সোহাগ গত ১৭ বছর রাজনীতিতে অনুপস্থিত। তবে সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হওয়ায় পদায়িত হয়েছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল হক মিলন মোনায়েম মুন্নার বন্ধু। অতীতে আন্দোলন বা কর্মসূচিতে কখনও কাউকে দেখা যায়নি।

আরেক যুগ্ম সম্পাদক গোলাম মোস্তফার বড় সহযোগী হলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ নজরুল ইসলাম আজাদ। তার কাছ থেকে যুবদল সভাপতি বিভিন্ন অজুহাতে টাকা-পয়সা নেন। সে সুবাদে গোলাম মোস্তফাকে যুগ্ম সম্পাদকের পদ দেন। আরেক যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুর রহমান বাবুর বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। তার বিরুদ্ধে মাদককারবারির অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিলো বলেও দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এ ছাড়া রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি ছিলেন খুবই অনিয়মিত।

যুগ্ম সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন মাগুরার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শেখরের ব্যবসায়িক সহযোগী। গত ১৭ বছর তার সঙ্গে ব্যবসা করেছেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নেতাকর্মীরা যখন আন্দোলনের মাঠে তখন তিনি দেশের বাইরে সময় কাটিয়েছেন। কাছের বন্ধুদের আন্দোলনে না নামার পরামর্শ দিয়ে বলেছে এ আন্দোলন করে কিছু হবে না। তবে ‘টাকা থাকলে বিএনপিতে পদ পাওয়া যায়, রাজপথে থাকা লাগে না’ বলে বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীদের নিরুৎসাহিত করতেন।

এ ছাড়া যুগ্ম সম্পাদক আবদুল ওয়াহাব গত ১০ বছর রাজনীতিতে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ বাদ দিয়ে বিদেশে অবস্থান করেন। সে সময় সংগঠন থেকে তাকে শোকজও করা হয়েছিলো। তারপরও শুধু সভাপতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই তাকে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ নেতা-কর্মীদের একাংশের। গাজীপুরে মদ ও ডিস্কো বার পরিচালনা করার গুঞ্জন রয়েছে।

দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন তার ট্রাঙ্কে শিবিরের বইপত্র পাওয়া গেছে বলে ছাত্রদলের সাবেক একাধিক নেতা দাবি করেছে। তা ছাড়া তিনি দলীয় অফিসেও আসার বদলে নিজের অফিসে থেকে টুকটাক সংগঠনের কাজ করেন।

সহ-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে এন এম আবদুল্লাহ উজ্জ্বল একজন দর্জি। তাকে কখনও আন্দোলন সংগ্রামে দেখা যায়নি। কেবল সভাপতির ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পদায়িত হয়েছেন তিনি। মাইনুদ্দিন খোকন ও মামুন হোসেন ভূঁইয়া গত কমিটিতে থাকলেও কোনও কর্মসূচিতে থাকতেন না। রাহাদুল আলম খান গত দশ বছর রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। বরং একটা রেস্টুরেন্টে ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করেন তিনি। তার বিরুদ্ধেও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ ছিলেন মাঠের রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। তবে সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পদ পেয়েছেন বলে অভিযোগ।

এ ছাড়া বর্তমান কমিটির একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একজন সহ-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজি-ডাকাতি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব নেতাদের একাধিক ঘটনায় জড়িত থাকার ভিডিও ‘সবার দেশ’র সংগ্রহে আছে। এমনকি তাদের অপকর্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মুন্না গত ১৫ বছর রাজপথের আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় ছিলেন । আলমগীর কবির সেলিম ও মজিবুর রহমান ভূঁইয়া সবুজও কেবল সাধারণ সম্পাদকের বন্ধু হিসেবে পদ পেয়েছেন। অচেনা মুখ মাসুদুল হক সভাপতি মুন্নার ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পদায়িত হয়েছেন।

সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান সোহেল গত সাত বছর ধরে প্যাভিলিয়ন গ্রুপ (পোশাক কারখানার) ফুল টাইম চাকুরি করছেন। সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পদ পেয়েছেন। সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মেজু যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধে পদ পাওয়ার বিষয়টি সংগঠনে ওপেন-সিক্রেট। সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক আবদুল কুদ্দুসও রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়। কেবল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর ব্যক্তিগত সেক্রেটারি হওয়ায় তাকে পদ দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদকদের মধ্যে ডা. গালিবও প্রায় নিষ্ক্রিয়। নয়নের অনুসারী হিসেবে পদায়িত তিনি । ডা. বেলাল নাজিম মুন্নার অনুসারী হিসেবে পদায়িত। সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন অপরিচিত মুখ। একই অবস্থা সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আল মামুন হাসান খান এমিলেরও।

পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত হোসেন ভূঁইয়া ছিলেন তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের লাইনম্যান। মুন্নার বাসার ব্যক্তিগত কাজের পুরস্কার হিসেবে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র-অর্বাচীন ব্যক্তিকে পাঠাগার সম্পাদক করায় নোয়াখালী জেলা নেতারা কিছুটা বিব্রত। সদস্য (সহ-সাধারণ সম্পাদক) আমিনুল ইসলাম খানকে ঠিকভাবে কেউ চেনে না। তিনি সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পদায়িত। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদায় (সদস্য) মহসীন বিশ্বাস, জহিরুল ইসলাম বিপ্লব, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, খন্দকার রিয়াজ, রাশেদুল ইসলাম রিপনও বিগত দিনে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার গত ৭-৮ বছর রাজনীতির বাইরে ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও মাদকসেবনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া সদস্য আবদুল্লাহ আল কাফি শাহেদ, নাজিম উদ্দিন মিঠু, মাহমুদুল করিম সজল সালাহউদ্দিন আহমেদ শাহীন, এমরান হোসেন শাহিন ও ফখরুল বিন খালেক সংগঠনে অপরিচিত। তাদের মধ্যে নাজিম ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদকসেবনের অভিযোগ রয়েছে। এমরান হোসেন শাহিন কারওয়ানবাজারের ফোন, ফ্যাক্স ও বিকাশের দোকানে চাকরি করেন। তিনি সভাপতির একনিষ্ঠ অনুসারী।

অঞ্চল রাজনীজি বলি সাস্কৃতি সম্পাদকের পদ

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিষয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের অনুযোগ হলো। দলটি নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিষয়ে একটু উদাসীন। রাজনীতিতে দলের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও ত্যাগকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে না পারার দুর্বলতা বরাবরই। গত কমিটিতে সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন মাতিস হাসান। দলের বিভিন্ন ডকুমেন্টারিসহ অনেক সাড়া জাগানো গানে তার ভূমিকা অনন্য। গত অর্ধযুগ ধরে বিএনপির এমন কোনও ইভেন্ট নাই যে মাতিসের গান ছাড়া হয়েছে । বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মাতিসের ওপর আস্থা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তাকে এবারের কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এমনকি তাকে নেওয়া লাগতে পারে এ আশঙ্কায় যুবদলের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদই বাদ দেয়া হয়েছে। 

সংগঠনের একাধিক সূত্র জানায়, মূলত, মানিকগঞ্জের একটি আসনের সংসদ সদস্য সভাপতি মুন্নার খুব ঘনিষ্ঠ। ভবিষ্যতে মাতিস সে এলাকার রাজনীতিতে ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেনা। এমন আশঙ্কায় তাকে কমিটি থেকে আগেভাগেই বাদ দেয়া হয়েছে। এটিকে ‘অঞ্চল রাজনীজি’র বলি হিসেবে খেছেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শুধু মাতিস নয় বরং নির্বাচনী আসনভিত্তিক রাজনীতিতে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠদের পথের কাঁটা হতে পারেন এমন অন্তত ২১ জনকে এ কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, রফিকুল ইসলাম রফিক, দুলাল হোসেন, আমানুল্লাহ বিপুল, দেওয়ান অলিউদ্দিন সুমন, জাবেদ হাসান শাফিন, এমরান হোসেন মানিক, কামরুল ইসলাম, আব্দুর রহিম,রিয়ন তালুকদার প্রমুখ।

জানতে চাইলে পদবঞ্চিত দুলাল হোসেন বলেন, আগের ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে মাত্র ১০৫ জনকে নতুন কমিটিতে রাখা হয়েছে। বাকিদের বাদ দেয়া হয়েছে। কিন্তু যাদের বাদ দেয়া হয়েছে, তাদের অধিকাংশই দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতি করেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন না- এমন ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে।

দুলাল আরও দাবি করেন, কমিটিতে ৪১ জনের মতো আছেন এদের কোনওদিন মিছিলে দেখেননি। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন চাওয়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক ত্যাগী নেতাকে বিভিন্ন পর্যায়ে বঞ্চিত করা হয়েছে। অথচ তাদের রাজনৈতিক যোগ্যতা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিলো না।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ছাত্রদলনেতা হত্যায় দণ্ডিতরাও যুবদলের কমিটিতে, বিতর্কিত অর্ধশতাধিক
রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
ক্লিনটন-ওবামার বিরুদ্ধে চাইলেই বড় পদক্ষেপ নিতে পারি: ট্রাম্প
গাজীপুরে ইবনে সিনার কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ এনসিপির তিন দাবি
রাজনীতিবিদরা ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ বিকৃত করে লিখেছে: স্পিকার
বিকৃত পর্নো ভিডিও নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি
রিসোর্টের আগুনে একই পরিবারের ৬ জন নিহত
সব হাসপাতালের লাইব্রেরিতে জিয়া-খালেদাকে নিয়ে ৩ বই রাখার নির্দেশ
ইনানীতে রিসোর্টে আগুন, নিহত বেড়ে ১০
মিষ্টির আসনে এমপি হতে চান বিএনপির ৭০ নেত্রী
লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ
পাঁচ দিনেই বিদায় ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি জাকারিয়ার!
মেঘনায় এনসিপির ৫৯ সদস্যের কমিটি, আহ্বায়ক কিরন
ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জনে বিরক্ত ভানিজা
দিল্লিতে সিজেপি নেতা দীপক আটক, তুলে নিলো নেহাকেও