বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশছোঁয়া দামে বিতর্ক, সমর্থকদের মামলা
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া টিকিটের দামকে অযৌক্তিক দাবি করে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (FSE)।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় কনজ্যুমার গ্রুপের সঙ্গে যৌথভাবে ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কমিশনে এ অভিযোগ করেছে। তাদের দাবি, ফিফা নিজেদের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিকিটের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছ ও অন্যায্য মূল্যনীতি চাপিয়ে দিচ্ছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এ আসর, যেখানে মোট ৪৮টি দল অংশ নেবে এবং ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এফএসই’র অভিযোগ, এবারের টিকিটের দাম এতটাই বেশি যে সাধারণ সমর্থকদের জন্য তা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম প্রায় ৪ হাজার ডলারের বেশি, যা আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় বহুগুণ বেশি। এমনকি ফিফার আগের নথিতেও গড় টিকিটের দাম কম ধরা হয়েছিলো, কিন্তু বাস্তবে তা অনেক বেশি।
ফিফা জানিয়েছে, প্রায় ৭০ লাখ টিকিট ছাড়া হবে এবং একজন দর্শক এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪টি ও পুরো টুর্নামেন্টে ৪০টি টিকিট কিনতে পারবেন। তবে সমর্থকদের অভিযোগ, নির্ধারিত কম দামের টিকিট খুব সীমিত এবং তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
আরও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিফার রিসেল বা পুনর্বিক্রয় বাজার। সেখানে কিছু টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। একটি ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম রিসেল মার্কেটে আকাশচুম্বী হয়ে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সমর্থকরা।
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এ মূল্যনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, চাহিদা বেশি হওয়ায় দামও সে অনুযায়ী নির্ধারণ করা হচ্ছে। তার মতে, বাজারভিত্তিক ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তবে সমর্থক সংগঠনগুলোর দাবি, এ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং টিকিট কেনার আগে শেষ পর্যন্ত কত টাকা গুনতে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে। তাদের মতে, ফিফা প্রতিযোগিতামূলক বাজারের নীতিমালা উপেক্ষা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টিকিটের এ মূল্যবৃদ্ধি এবং মামলার ঘটনাটি বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে বাণিজ্যিকীকরণ বনাম সাধারণ দর্শকের প্রবেশাধিকার—এ বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।
সবার দেশ/কেএম




























