দিল্লিতে ধরপাকড়, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল রাজপথ, আটক ছাত্রনেতা নেহা বোরা।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ধরপাকড় চললেও নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে রাজপথে থাকার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে দিল্লিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভকারীদের আটক করেছে পুলিশ। রামকৃষ্ণ আশ্রম এলাকা থেকে আবারও আটক হয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে শনিবারের বিক্ষোভ চলাকালে নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছিলো। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় আবারও তাকে আটক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ধরপাকড়ের মধ্যেও রাজপথে আন্দোলন
সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রোববারও বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের নিরাপত্তাকর্মীরা টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলেন। আটক কয়েকজনের শরীরে আঘাতের চিহ্নও দেখা গেছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের আটক করার মাধ্যমে প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এক বিক্ষোভকারী জানান, আন্দোলনকারীদের আটক এবং গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের প্রতিবাদে তারা রাজপথে থাকবেন। সিইসির পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশনের সংস্কার এবং গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
যন্তর মন্তরে বাড়তি নিরাপত্তা
সিজেপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
এদিকে মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেড ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশও দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
আদালতের নির্দেশের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মুক্তি পেয়েছেন সিজেপির তিন নেতা
আটকের এক দিন পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে মুক্তি পেয়েছেন সিজেপির নেতা অভিজিৎ দিপকেসহ তিনজন। এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তি পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘ভীতু’ বলে আখ্যা দেন অভিজিৎ দিপকে। তার এ মন্তব্য আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার বিষয়টিকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আশুতোষ রাঙ্কার দাবি, গত ৭২ ঘণ্টায় ভারতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময়কার পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। তার অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের মূল দাবি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ হলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টিকে নিজের বিরুদ্ধে নেয়া চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এবং জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষার চেষ্টা করছেন।
এগুলো আন্দোলনকারী নেতাদের বক্তব্য ও অভিযোগ। এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ধ্রুব রাঠির দাবি, আটক নয়—অপহরণ
এর আগে মুক্তি পেয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। মুক্তির পর তিনি দাবি করেন, তাকে আটক করা হয়নি; বরং অপহরণ করা হয়েছিলো।
তবে তার এ অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কী বলেছে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের সংস্কার নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক
সিইসির পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে দিল্লির চলমান আন্দোলনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, রাজনৈতিক জবাবদিহি এবং নাগরিকদের প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে। আন্দোলনকারীরা নির্বাচন কমিশনের সংস্কার ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবি তুললেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ধরপাকড়ের মধ্যেও সিজেপি ও সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পরিস্থিতির দ্রুত অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান, আটক ব্যক্তিদের আইনি পরিস্থিতি এবং আদালতের নির্দেশ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।
সবার দেশ/এমকেজে




























