পানিতে তলিয়ে গেলো ছয় বিঘা ধান, মাঠেই কৃষকের মৃত্যু
ঋণ করে ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন কৃষক আহাদ মিয়া। আর কয়েক দিন পরই সে ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন ছিলো তার। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও হাওরের পানিতে পুরো জমির ধান তলিয়ে যেতে দেখে মাঠেই অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি।
শনিবার (২ মে) সকালে রামপুর গ্রাম–এর হাওর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি গোয়ালনগর ইউনিয়ন–এর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। চিকিৎসকদের ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়ে জমিতে ধান রোপণ করেছিলেন আহাদ মিয়া। কয়েক দিনের মধ্যেই ধান কাটার প্রস্তুতি চলছিলো। কিন্তু টানা অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের পানি বেড়ে গিয়ে তার পুরো জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। তিন দিন ধরেও জমি থেকে পানি না সরায় তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন।
শনিবার সকালে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে মাঠে যান তিনি। সেখানে গিয়ে সব ধান পানির নিচে তলিয়ে থাকতে দেখে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বড় ভাই ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন বলেন, সকালে শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়েছিল আমার ভাই। গিয়ে দেখে সব ধান তলিয়ে গেছে। এরপরই সে অসুস্থ হয়ে মাঠেই মারা যায়।
আহাদ মিয়ার ভাতিজা ফারুক মিয়া জানান, ঋণের টাকা দিয়ে তার চাচা ছয় বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। ধান বিক্রি করে ঋণ শোধ করার আশা ছিলো। কিন্তু সব জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তিনি সহ্য করতে পারেননি।
জেলা ও উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগর উপজেলা–এর হাওর এলাকার অন্তত এক হাজার হেক্টর ধানি জমি বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে। ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা গত দুই দিন ধরে পানির নিচে থাকা অপরিপক্ব ধান কাটছেন।
হাওর এলাকায় এখন দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটানো হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অনেক ধানে ইতোমধ্যে পচন ধরেছে। কিছু জমির ধান পুরোপুরি পাকেনি বলেও জানিয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক আবু লাল মিয়া জানান, তিনি ২০ কানি জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ কানি জমির ধান কেটে তুলতে পেরেছেন, বাকি ১৫ কানি জমির ধান এখনও পানির নিচে রয়েছে।
তিনি বলেন, দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা এনে ধান লাগিয়েছিলাম। আশা ছিলো ধান বিক্রি করে দেনা শোধ করবো। এখন সব পানির নিচে চলে গেছে, কী করবো বুঝতে পারছি না।
মো. ইমরান হোসেন জানান, নাসিরনগরের হাওর এলাকায় প্রায় এক হাজার বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে অন্তত ২০০ কৃষকের নাম সরকারি সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























