Sobar Desh | সবার দেশ ফজলে রাব্বি, বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২:৪৭, ২ মে ২০২৬

উত্তেজনা ও মারধরের ঘটনা

বাগাতিপাড়ার মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

বাগাতিপাড়ার মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
ছবি: সবার দেশ

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়দের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরোধের একপর্যায়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।

প্রকল্পের বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়, ১ম সংশোধিত)’ এর আওতায় স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ চলছে। ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর কাজের আদেশ দেয়া হয় এবং ১২ মাস মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৭ টাকা ব্যয়ে সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্ট্রাকশন ওয়ার্কস।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেডিয়ামের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে নিম্নমানের ২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভরাট কাজে বালির পরিবর্তে পুকুরের মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা প্রকল্পের নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। স্থানীয়দের দাবি, যেখানে তিন ভাগ বালি ও এক ভাগ মাটি ব্যবহারের কথা, সেখানে পুরোপুরি মাটি দিয়েই ভরাট কাজ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন বলেন, নিম্নমানের ইট ও উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। বালি-সিমেন্টের অনুপাতেও অনিয়ম রয়েছে। আমরা চাই সরকারি সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত কাজ হোক।

তবে নির্মাণকাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রি মোমিনুল হোসেন বলেন, ২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হচ্ছে—এটা সত্য। কিন্তু আমরা শ্রমিক, মালিকপক্ষ যেভাবে উপকরণ দেয় সেভাবেই কাজ করি।

এদিকে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে স্থানীয়রা নির্মাণস্থলে গেলে সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেনের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা শুভ সাব-কন্ট্রাক্টরকে মারধর করেন।

এ বিষয়ে শুভ বলেন, আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আমি তাকে মারধর করি।

অন্যদিকে সাব-কন্ট্রাক্টর মাহবুব হোসেন বলেন, কাজে কোনও অনিয়ম থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিলো। এভাবে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্ট্রাকশন ওয়ার্কস-এর স্বত্বাধিকারী সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনেই কাজ করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি আগে চাঁদা দাবি করেছিলো। সে দাবি পূরণ না হওয়ায় এখন নানা অভিযোগ তুলে প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকল্পের কাজের মান যাচাই করতে হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সবার দেশ/কেএম

জনপ্রিয়

শীর্ষ সংবাদ:

বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন: জানালেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
রাখাইনে তীব্র বিমান হামলা, টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক
সহকারী শিক্ষিকার বদলির দাবিতে বাগাতিপাড়ায় মানববন্ধন
নিরাপত্তা শঙ্কায় বাবার জানাজায় থাকছেন না মোজতবা খামেনি
এমপি মনির বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম: ছাত্রদল সভাপতি
ড. জন লি লিগ্যাসি অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচিত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ
জাপানের ৫ পেট্রল বোট যুক্ত হলো নৌবহরে
এলপিজির দাম কমলো ৩৫৭ টাকা
নারীসহ যুবদল নেতা আটক, হারালেন পদ
‘ফুয়েল আপ–সেলিব্রেশন অব টেস্ট’-এর যাত্রা শুরু
এইচএসসিতে প্রথম দিনে অনুপস্থিত প্রায় ২৫ হাজার, বহিষ্কার ৭
শার্শায় তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক গ্রেফতার
নোয়াখালীতে হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং
যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত ইরান, বসেনি বৈঠকে