ফের বাড়লো জেট ফুয়েলের দাম
দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট এ-১-এর দাম আবারও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অক্টোবর মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই ধরনের ফ্লাইটেই জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬ পয়সা।
বুধবার জারি করা বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে এই দাম ছিলো ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ১৭ টাকা ৬ পয়সা, যা প্রায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনস পরিচালিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১ দশমিক ১৮৮২ মার্কিন ডলার। সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য এ দাম ছিলো ১ দশমিক ০৭৭০ ডলার। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ০ দশমিক ১১১২ ডলার বা প্রায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। নির্ধারিত এ দামের মধ্যে কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর প্রকাশিত প্ল্যাটস রেটের গড়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) নিষ্পত্তিতে বিবেচিত মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ব্যয় উপাদানের ভিত্তিতে অক্টোবরের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম নির্ধারণের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট এ-১-এর মূল্য, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী, সংশোধিত দাম মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা করা হয়েছিলো। একই মাসে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য জেট এ-১-এর দাম প্রতি লিটার ১ দশমিক ০৩৫৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ০৭৭০ ডলার নির্ধারণ করা হয়।
পরপর দুই মাস জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের পরিচালন ব্যয়ে এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি ব্যয় এয়ারলাইনসগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের বড় একটি অংশ হওয়ায় ভাড়া ও অন্যান্য সেবার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























