Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৪৮, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ঝড়ের শঙ্কা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ

তেলের দাম ছাড়ালো ১০১ ডলার 

তেলের দাম ছাড়ালো ১০১ ডলার 
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ঝড়ের কারণে তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং শোধনাগারের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাজারে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে।

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৩ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৫১ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮২ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কাই বর্তমানে তেলের বাজারে সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে তৈরি হওয়া ঝড় পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

হারিকেনের আশঙ্কা, উৎপাদনে বিঘ্নের শঙ্কা

মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া একটি ক্রান্তীয় ঝড় দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বছরের প্রথম আটলান্টিক হারিকেনে পরিণত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন, পরিবহন এবং শোধনাগারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ বা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে হয়। ফলে সেখানে বড় ধরনের ঝড় আঘাত হানলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তার প্রভাব পড়তে পারে।

ঝড়টির কারণে ওই অঞ্চলের ছয়টি শোধনাগারের কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলো দেশটির মোট পরিশোধন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেকের প্রতিনিধিত্ব করে। দেশটির মোট পরিশোধন সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৮২ লাখ ব্যারেল।

ফলে উৎপাদন বা শোধন কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও তা বাজারে সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ বাড়াতে পারে। এরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে।

যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে তেলের মজুত

তেলের দাম বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ২০ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল কমেছে।

একই সময়ে পেট্রোলের মজুতও কমেছে। তবে পরিশোধিত জ্বালানি বা ডিস্টিলেটের মজুত সামান্য বেড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদক ও ভোক্তা দেশ যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমে যাওয়াকে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাব যুক্ত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ছে

তবে বাজারে স্বস্তির কিছু খবরও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।

মঙ্গলবার সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৫৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। গত সাত থেকে ১০ দিনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়েছে।

সরবরাহ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। ফলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনও রয়েছে।

সৌদি আরবে হামলায় নতুন উদ্বেগ

এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরে হামলার ঘটনা ঘটে।

ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর অভিযান চলার সময় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযানে সৌদি আরব আকাশপথে সহায়তা দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদন ও রপ্তানি অঞ্চল হওয়ায় এ অঞ্চলে যেকোনও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেল পরিবহন রুট বা অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ে এবং তার প্রভাব পড়ে দামে।

দুই ঝুঁকিতে তেলের বাজার

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য হারিকেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা—এ দুই ধরনের ঝুঁকি একই সময়ে তেলের বাজারকে প্রভাবিত করছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানি ধীরে ধীরে বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা এখনও সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারছেন না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়া বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

ফলে আঞ্চলিকভাবে তেল সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, আগামী দিনগুলোতে ঝড়টির গতিপথ, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন ও শোধনাগারের কার্যক্রম এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিই তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

সূত্র : আল-জাজিরা

সবার দেশ/এমকেজে

শীর্ষ সংবাদ:

ধ্বংসাবশেষের ধাক্কা থেকে বাঁচলো বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
রোহিঙ্গাদের ৫ শর্ত, না হলে ফিরতে নারাজ ৮৭%
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি ক্রিস্টা পাইকের
এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
মাহমুদউল্লাহর ৮ ছক্কা, তবু হার বাংলাদেশের
পর্দার ফাটাকেষ্ট এবার সত্যিই মন্ত্রী!
ফের বাড়লো জেট ফুয়েলের দাম
মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার
মেসির বিদায়ে ভালোবাসায় ভাসালো বার্সা
বন্ধুত্ব চাইলে ভারতকে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে: নাহিদ
এমপির উপস্থিতিতে জামায়াত আমিরকে মারধর
রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের টেনে-হিঁচড়ে আটক