Sobar Desh | সবার দেশ প্যারিস (ফ্রান্স) থেকে মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম

প্রকাশিত: ০০:১৬, ২৫ জুন ২০২৬

প্যারিসে ফের খুলছে মেরি ও লুই পাস্তুরের অ্যাপার্টমেন্ট-মিউজিয়াম

প্যারিসে ফের খুলছে মেরি ও লুই পাস্তুরের অ্যাপার্টমেন্ট-মিউজিয়াম
মেরি- লুই পাস্তুর ও তাদের ঐতিহাসিক অ্যাপার্টমেন্ট। ছবি: সবার দেশ

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত ইনস্টিটিউট পাস্তুরের অন্তর্গত মেরি ও লুই পাস্তুরের ঐতিহাসিক অ্যাপার্টমেন্ট-মিউজিয়াম দীর্ঘ সংস্কার কাজ শেষে পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা এ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি শুধু একটি জাদুঘর নয়, বরং উনিশ শতকের শেষভাগের ফরাসি সমাজ, সংস্কৃতি এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির এক জীবন্ত সাক্ষ্য। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৮ সালের নভেম্বরে ইনস্টিটিউট পাস্তুরের ১৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাদুঘরটি নতুন রূপে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে।

লুই পাস্তুর মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত। জীবাণুবিজ্ঞান, টিকাবিজ্ঞান ও খাদ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে তাঁর অবদান আধুনিক বিজ্ঞানের গতিপথ বদলে দিয়েছে। ১৮৮৫ সালে জলাতঙ্কের টিকা উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন। এ সাফল্যের পর ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইনস্টিটিউট পাস্তুর এবং পরের বছর, অর্থাৎ ১৮৮৯ সালে, লুই পাস্তুর তার স্ত্রী মেরি পাস্তুরকে নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক ভবনে বসবাস শুরু করেন। তখন তিনি শুধু ফ্রান্স নয়, গোটা বিশ্বের কাছে এক সম্মানিত বৈজ্ঞানিক ব্যক্তিত্ব।

১৮৯৫ সালে লুই পাস্তুরের মৃত্যু এবং ১৯১০ সালে তার স্ত্রী মেরি পাস্তুরের মৃত্যুর পর তাদের বাসভবনটি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়। ১৯৩০-এর দশকে তাদের নাতি লুই পাস্তুর ভ্যালেরি-রাডোর উদ্যোগে অ্যাপার্টমেন্টের প্রতিটি কক্ষ মূল রূপে পুনর্নির্মাণ করা হয়। ফলে এটি সময়ের এক অনন্য দলিলে পরিণত হয়, যেখানে প্রবেশ করলে মনে হয় যেন উনিশ শতকের প্যারিসে ফিরে যাওয়া গেছে।

জাদুঘরের বিভিন্ন কক্ষে এখনও সংরক্ষিত রয়েছে সে সময়ের আসবাবপত্র, শিল্পকর্ম, মূল্যবান কার্পেট, অলংকৃত দেয়ালসজ্জা, মূল ওয়ালপেপার, পারিবারিক স্মারক এবং পাস্তুর দম্পতির ব্যক্তিগত ব্যবহার্য নানা সামগ্রী। এসব নিদর্শন শুধু একজন বিজ্ঞানীর কর্মজীবনের ইতিহাস নয়, তার পারিবারিক জীবন ও ব্যক্তিগত রুচিরও পরিচয় বহন করে। এ কারণে অ্যাপার্টমেন্ট-মিউজিয়ামটি বিজ্ঞানপ্রেমী, ইতিহাসবিদ এবং সাধারণ দর্শনার্থীদের কাছে সমানভাবে আকর্ষণীয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইনস্টিটিউট পাস্তুরের ঐতিহাসিক ভবনে ব্যাপক সংস্কার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য ছিল ভবনের ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক জাদুঘর ব্যবস্থার উপযোগী করে তোলা। এ উদ্দেশ্যে প্রথমে জাদুঘরের সংগ্রহে থাকা হাজার হাজার নিদর্শনের বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এরপর সেগুলো নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ সম্পন্ন করা হয়। জানা গেছে, ৯ হাজারেরও বেশি বস্তু এই সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।

সংস্কারকাজের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ভবনের নাজুক ও ঐতিহাসিক উপাদানগুলোর ওপর। উনিশ শতকের শেষভাগের কাপড়, আসবাবপত্র, শিল্পকর্ম এবং ১৮৮৮ সালের মূল ওয়ালপেপারগুলোর সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন। এসব উপকরণকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্ষত রাখাই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তবে পুনরায় চালুর পর জাদুঘরটি শুধু আগের রূপে ফিরে আসবে না; বরং আরও বিস্তৃত ও আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে হাজির হবে। ইনস্টিটিউট পাস্তুর জানিয়েছে, নতুন প্রদর্শনীতে লুই পাস্তুরের গবেষণার ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরা হবে। দর্শনার্থীরা জানতে পারবেন কীভাবে পাস্তুরের আবিষ্কার পাস্তুরাইজেশন প্রযুক্তি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং আধুনিক টিকাব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে দেয়। পাশাপাশি সমসাময়িক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম আলোচিত প্রযুক্তি এমআরএনএ ভ্যাকসিনের বিকাশেও তার গবেষণার প্রভাব কীভাবে কাজ করেছে, সেটিও তুলে ধরা হবে।

জাদুঘরের ভবিষ্যৎ ভ্রমণপথের অন্যতম আকর্ষণ হবে লুই ও মেরি পাস্তুরের সমাধিক্ষেত্র। ইনস্টিটিউটের ঐতিহাসিক ভবনের নিচে অবস্থিত এ ক্রিপ্টটি দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের জন্য একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। নব্য-বাইজেন্টাইন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ সমাধিক্ষেত্রের নকশা করেছিলেন বিখ্যাত স্থপতি শার্ল জিরো। এর দেয়ালজুড়ে থাকা রঙিন মোজাইকচিত্রে লুই পাস্তুরের গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও কর্মজীবনের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। প্যারিসের অন্যতম অপ্রচলিত কিন্তু অসাধারণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

ইনস্টিটিউট পাস্তুরের ১৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ২০২৮ সালের নভেম্বরে জাদুঘরটি পুনরায় চালু হওয়ার পরিকল্পনা বিজ্ঞান ও ইতিহাসপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সংস্কার শেষে যখন এর দরজা আবার খুলবে, তখন দর্শনার্থীরা শুধু লুই পাস্তুরের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবনই নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানের বিকাশে তাঁর অবদানের এক বিস্তৃত ও জীবন্ত ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পাবেন।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

ভিনির জোড়া গোলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল
পারমাণবিক অস্ত্রই বিশ্বকে বড় যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে: রাশিয়া
ডা. জাহেদের ঘটনায় দিল্লির ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করলো ঢাকা
হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ দোররার সাজা
বিশ্বকাপ ফাইনালে ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর যৌথ ট্রফি প্রদান
ডিসি সারওয়ার আমাদের ‘চোখ খুলে দিয়েছেন’: মন্ত্রী আরিফুল হক
সীমান্ত রক্ষায় সীমান্তবাসীদের সামরিক ট্রেনিং দিতে হবে: নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী
রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ডের পথে বাংলাদেশ
প্যারিসে ফের খুলছে মেরি ও লুই পাস্তুরের অ্যাপার্টমেন্ট-মিউজিয়াম
প্রেমের বিয়ে, সাবেক স্বামীর ম্যাসেজে প্রাণ গেলো তরুণীর
রিজার্ভে স্বস্তি, ছাড়ালো ৩৬ বিলিয়ন ডলার
১৭ বছর পর পেয়েছি কার্যকর জাতীয় সংসদ: স্পিকার
রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তানকে উড়িয়ে দিলো পর্তুগাল
৫ আগস্টের পর আ.লীগের রাজনীতি শেষ হয়ে গেছে: নাহিদ ইসলাম