চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে চীনের দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দালিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান লিয়াওনিং প্রদেশের ভাইস গভর্নর বাই ইং, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং চীনের সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে এ সরকারি সফরে গেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও জোরদার করা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেবেন। এছাড়া সফরকালে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে তার।
এর আগে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে বিশেষ বিমানে চীনের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে দুই দিন ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করবেন। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে সফরের মূল কূটনৈতিক কার্যক্রম, যেখানে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনে যাত্রার আগে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্স’-এর ভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানো হয়। এ সময় মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মিণী উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম, ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকাসহ বাংলাদেশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২১ জুন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া সফর ছিলো তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। সে সফর শেষ করেই এবার গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এ সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অবকাঠামো এবং বাণিজ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ ফল বয়ে আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























