Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫০, ২৩ জুন ২০২৬

ছাড়ছেন লেবার পার্টির নেতৃত্বও

পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের

পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা স্যার কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। দলের আইনপ্রণেতাদের আস্থা হারানোর কথা স্বীকার করে সোমবার এক আবেগঘন ভাষণে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। 

স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে তার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা তৃতীয় চার্লসকে অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে লেবার পার্টির ভেতরে আগামী সাধারণ নির্বাচনে তাকে নেতৃত্বে রাখার বিষয়ে যে প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হয়েছিলো, সেটিকে সম্মান জানিয়ে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

বিদায়ী ভাষণে স্টারমার বলেন, দেশের স্বার্থকে সবসময় ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখেছেন তিনি। সে দায়িত্ববোধ থেকেই নেতৃত্বের পরিবর্তনের পথ সুগম করতে চান।

ক্ষমতা হস্তান্তরের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি জানান, লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন বিরতির আগেই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর তার কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। 

মাত্র দুই বছর আগে ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছিলেন কিয়ার স্টারমার। বিদায়ী বক্তব্যে তিনি স্মরণ করেন, ছয় বছর আগে দলের নেতৃত্ব গ্রহণের সময় লেবার পার্টি রাজনৈতিক, আর্থিক ও নৈতিক সংকটে নিমজ্জিত ছিলো। দলকে পুনর্গঠন, ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী পদক্ষেপ এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার কৃতিত্বও তুলে ধরেন তিনি। 

নিজের সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে স্টারমার দাবি করেন, তার আমলে ব্রিটিশ অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়েছে, মজুরি মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত হারে বেড়েছে, স্বাস্থ্যসেবার দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা কমেছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সর্বোচ্চ বিনিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু দারিদ্র্য হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের অবস্থান শক্তিশালী করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। 

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া, স্থানীয় নির্বাচনে হতাশাজনক ফলাফল এবং দলের ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জোরালো হওয়ার পর তার ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত দলীয় আস্থার সংকটই তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। 

স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

পদত্যাগের ঘোষণার শেষে কিয়ার স্টারমার বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি পরিবারকে আরও বেশি সময় দিতে চান। স্ত্রী ভিক্টোরিয়া এবং সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে পরিবার তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলো। 

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ধ্বংসাবশেষের ধাক্কা থেকে বাঁচলো বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
রোহিঙ্গাদের ৫ শর্ত, না হলে ফিরতে নারাজ ৮৭%
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতা, সরকারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি ক্রিস্টা পাইকের
এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
মাহমুদউল্লাহর ৮ ছক্কা, তবু হার বাংলাদেশের
পর্দার ফাটাকেষ্ট এবার সত্যিই মন্ত্রী!
ফের বাড়লো জেট ফুয়েলের দাম
মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠাবে সরকার
মেসির বিদায়ে ভালোবাসায় ভাসালো বার্সা
বন্ধুত্ব চাইলে ভারতকে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে: নাহিদ
এমপির উপস্থিতিতে জামায়াত আমিরকে মারধর
রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতাদের টেনে-হিঁচড়ে আটক