নিষেধাজ্ঞা শিথিলে ৬ বিলিয়ন ডলারের তেল রফতানি করেছে ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি একটি সাময়িক সমঝোতার সুযোগে ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি করেছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) পরমাণু অস্ত্রবিরোধী বেসরকারি সংস্থা ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর তথ্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ইরানের অন্তত ২০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে যাত্রা করে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহের সুযোগ পায়।
ডব্লিউএসজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ এক মাসের ব্যবধানে ইরান প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল তেল রফতানি করে, যা দেশটির জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয় নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গত ২২ জুন মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করে। ওই লাইসেন্সের আওতায় ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির ওপর আরোপিত কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়।
তবে এ সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত ৭ জুলাই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ওই সাধারণ লাইসেন্স বাতিল করে পুনরায় ইরানের তেল খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে।
প্রাথমিকভাবে এ শিথিলতা আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকার কথা থাকলেও নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে তা আগেই প্রত্যাহার করা হয়। ফলে ইরানের জ্বালানি খাতে নতুন করে সব ধরনের লেনদেন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের এ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইরান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় দেশটির তেল রফতানি আবারও চাপে পড়তে পারে।
সূত্র: তাস ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
সবার দেশ/কেএম




























