যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা
যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত ইরান, বসেনি বৈঠকে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এর মধ্যেই ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী সমঝোতা স্মারকের শর্ত মেনে না চলে, তাহলে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আর কোনও অগ্রগতি হবে না।
এক সাক্ষাৎকারে কালিবাফ অভিযোগ করেন, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করেছে। তিনি পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ইরান এমন পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে তা দিতেও দ্বিধা করবে না।
ইরানি স্পিকারের ভাষ্য, বর্তমান আলোচনা শুধু একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নয়; বরং গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফা শর্ত বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি বলেন, এসব শর্ত বাস্তবায়ন ছাড়া কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা সম্ভব নয়।
কালিবাফ জানান, সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় একটি পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হবে, যারা সমঝোতার শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করবে। যদিও দলটির কাঠামো, ক্ষমতা ও কার্যপদ্ধতি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে ইরান চার কোটির বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি করতে সক্ষম হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির বিষয়ে কালিবাফ বলেন, এ কৌশলগত জলপথে ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ইরান কোনও অবস্থাতেই এ অঞ্চলের ওপর নিজের অধিকার ছেড়ে দেবে না। তার দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী পণ্যবাহী জাহাজগুলো ৬০ দিন পর্যন্ত বিনা বাধায় হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। তবে এর অর্থ এ নয় যে, ইরান নিজের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসবে।
এদিকে কাতারে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক নিয়েও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, কাতারে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বৈঠক হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জারেড কুশনার কাতারে যাচ্ছেন। একই সময়ে ইরানও একটি প্রতিনিধিদল দোহায় পাঠায়। তবে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, কাতারে প্রতিনিধি পাঠানো মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক নয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই দেশটির সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজকে বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের সফরের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদলের কাতার সফরের কোনও সম্পর্ক নেই এবং এ নিয়ে অযথা জল্পনা করা উচিত নয়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও এরপর কয়েক দফা হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে উভয় পক্ষ আবারও যুদ্ধবিরতি মেনে চলার অবস্থানে রয়েছে। তবে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে চায় না। বরং সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে একে অপরের সক্ষমতা ও অবস্থান যাচাই করছে। ফলে যুদ্ধের হুমকি অব্যাহত থাকলেও আপাতত বড় ধরনের সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























