Sobar Desh | সবার দেশ ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:৩৬, ২০ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৭:৩৬, ২০ জুলাই ২০২৬

২০১০ থেকে ২০২৬

বার্সেলোনার ছোঁয়াতেই স্পেনের দুই বিশ্বজয়

বার্সেলোনার ছোঁয়াতেই স্পেনের দুই বিশ্বজয়
ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বে বহুল প্রচলিত একটি কথা—‘বার্সেলোনা যখন জেতে, স্পেন তখন হাসে।’ ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সে কথাটি যেন আরও একবার বাস্তবে রূপ নিলো। ২০১০ সালে প্রথম এবং ২০২৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে স্পেনের সাফল্যের অন্যতম বড় ভিত্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে বার্সেলোনা ও তাদের বিখ্যাত যুব একাডেমি ‘লা মাসিয়া’।

দুই বিশ্বকাপজয়ী দলেই ছিলো বার্সেলোনার আটজন করে ফুটবলার। ১৬ বছরে প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে কোচ ও খেলার ধরন, কিন্তু স্পেনের সাফল্যের কেন্দ্রে বার্সেলোনার প্রভাব রয়ে গেছে অটুট।

২০১০: বার্সার সোনালি প্রজন্মে প্রথম বিশ্বজয়

২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে ইতিহাসে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। সে দলের প্রাণভোমরা ছিলেন বার্সেলোনার একঝাঁক তারকা ফুটবলার, যারা একই সঙ্গে ক্লাব পর্যায়েও বিশ্বের অন্যতম সফল দল গড়ে তুলেছিলেন।

বিশ্বকাপজয়ী সে দলে বার্সেলোনার আট ফুটবলার ছিলেন—কার্লেস পুয়োল, জেরার্ড পিকে, জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জিও বুস্কেতস, পেদ্রো রদ্রিগেজ, ডেভিড ভিয়া ও ভিক্টর ভালদেস।

যদিও ডেভিড ভিয়া লা মাসিয়ার ফুটবলার ছিলেন না, বিশ্বকাপ চলাকালে তিনি বার্সেলোনার খেলোয়াড় হিসেবে দলে ছিলেন এবং স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন। অন্যদিকে ইনিয়েস্তার অতিরিক্ত সময়ের জয়সূচক গোল স্পেনকে এনে দেয় প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। জাভির অসাধারণ পাসিং, পুয়োলের নেতৃত্ব, পিকে ও বুস্কেতসের দৃঢ়তা এবং পুরো দলের বল দখলভিত্তিক ফুটবল বিশ্বকে নতুন এক স্পেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

২০২৬: লা মাসিয়ার নতুন প্রজন্মের বিশ্বজয়

দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি স্পেনের হাতে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলেও ছিল বার্সেলোনার শক্তিশালী উপস্থিতি। এবারও বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডে ছিলেন বার্সেলোনার আট ফুটবলার।

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে বার্সেলোনার প্রতিনিধিত্ব করেন লামিন ইয়ামাল, পাউ কুবার্সি, পেদ্রি, গাভি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস, এরিক গার্সিয়া এবং হুয়ান গার্সিয়া।

এ দলের বড় শক্তি ছিলো লা মাসিয়ায় গড়ে ওঠা একঝাঁক তরুণ প্রতিভা। ইয়ামালের সৃজনশীলতা, পেদ্রির মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, গাভির আগ্রাসী ফুটবল, কুবার্সির রক্ষণ সামলানো এবং ফেরান তোরেসের গুরুত্বপূর্ণ গোল স্পেনকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে বসিয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদের অনুপস্থিতিও ইতিহাস

২০২৬ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত তথ্যগুলোর একটি হলো, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রিয়াল মাদ্রিদের কোনও খেলোয়াড় ছিলো না। অথচ বার্সেলোনার আট ফুটবলারই ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এটি স্পষ্ট করে যে, স্পেনের নতুন প্রজন্মের ফুটবলার তৈরিতে লা মাসিয়া এখনও ইউরোপের অন্যতম সফল ফুটবল একাডেমি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

দুই যুগ, এক সূত্র

২০১০ সালে জাভি-ইনিয়েস্তা-পুয়োলদের প্রজন্ম স্পেনকে এনে দিয়েছিলো প্রথম বিশ্বকাপ। ২০২৬ সালে সে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় ইয়ামাল-পেদ্রি-গাভি-কুবার্সিদের নতুন প্রজন্ম। দুই সময়ের মধ্যে পার্থক্য ১৬ বছরের হলেও একটি জায়গায় মিল রয়েছে—স্পেনের বিশ্বজয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে বার্সেলোনা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ক্লাব পর্যায়ে একই দর্শনে বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের সমন্বয়ই স্পেনের জাতীয় দলে বোঝাপড়া ও ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। আর সে কারণেই ২০১০ থেকে ২০২৬—স্পেনের দুই বিশ্বকাপ জয়ের গল্পে বার্সেলোনার অবদান অনস্বীকার্য।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

বিদেশের মাটিতে রোমাঞ্চকর ১০ টেস্ট জয় বাংলাদেশের
বিভ্রান্তকারীদের অতীত দেখে নজরে রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
কাঠমাণ্ডুতে কারিগরি ত্রুটিতে আটকা বিমানের ১২৭ যাত্রী
১৮ আগস্ট বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু
যৌতুকের টাকা কম হওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা
প্রয়োজনে ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে’ দিবে ইরানি সেনারা: সেনাপ্রধান
চাঁদাবাজি চলবে না, এখানকার সরকার আমি: আমির হামজা
দুদককে অকার্যকর করে রেখেছে সরকার
বেনাপোল স্থলবন্দরে পরিচালকসহ ৭৯টি পদ শূন্য
দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে গ্লোবাল বারিস্তা ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগ
অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে ইতিহাস লিখলো বাংলাদেশ
আত্মহত্যার ঝুঁকিতে ৫ হাজার মার্কিন সেনা!
৯৮ শতাংশ গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো: চিফ হুইপ
আমির হামজার গাড়িতে হামলা, জামায়াত-গণঅধিকার সংঘর্ষ
ভারতীয় মাদকসহ রাবিতে ছাত্রদল নেতা আটক