নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কখনও কোনও দেশের কাছে মাথা নত করবে না। নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় ও স্বাবলম্বী পররাষ্ট্রনীতির কারণে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ এখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বৈদেশিক মিশনগুলোর সার্বিক কার্যক্রম ও মূল্যায়নসংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সফল ও সুদূরপ্রসারী পররাষ্ট্রনীতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান নিয়ে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, যেসব কূটনৈতিক মিশন নতুন শ্রমবাজার তৈরি, বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানো কিংবা সর্বাধিক বাণিজ্য বিনিময়ে সফল হচ্ছে, তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার বা ‘রিওয়ার্ড ব্যবস্থা’ চালু আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দূতাবাসগুলোর কার্যক্রমের সফলতা শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। প্রবাসীদের সেবা, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় মিশনগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছর যে দুঃশাসন চলেছে, সেই সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিলো না। দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম, প্রবাসীদের সেবা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তৎকালীন সরকারের কার্যকর তদারকি ও আগ্রহ ছিলো না বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সে স্থবিরতা ও অকার্যকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এখন বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে আরও সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক ও ফলাফলভিত্তিক করার কাজ চলছে।
দূতাবাসগুলোর দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রতিটি বাংলাদেশি দূতাবাসের কাজের মান মূল্যায়নের জন্য ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ বা কেপিআই ব্যবস্থা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
এই কেপিআইয়ের মাধ্যমে বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিটি মিশনের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করা হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রবাসীদের সেবা এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মিশনের ভূমিকা কতটা কার্যকর—এসব বিষয় মূল্যায়নের আওতায় আসবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কেপিআই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রতিটি দূতাবাসের কাজের মান ও গ্রেডিং নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে মিশনগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীলতা ও প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে এবং দেশের স্বার্থে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সবার দেশ/কেএম




























