Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:০৩, ২৮ আগস্ট ২০২৬

নেপালে মৃত্যু ছাড়ালো ৩৯০, নিখোঁজ ১৪০০

নেপালে মৃত্যু ছাড়ালো ৩৯০, নিখোঁজ ১৪০০
ছবি: সংগৃহীত

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালেই অন্তত ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উদ্ধারকর্মীরা দুর্গম এলাকায় কাদার মধ্যে নেমে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালালেও ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতুর কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। 

নেপালের পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৭৭, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩ এবং কানাডার ২৫ নাগরিক রয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিকও রয়েছেন। 

অন্যদিকে, চীনের তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে আরও ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তিব্বত অঞ্চলে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। 

উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার

বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের দুর্গম এলাকাগুলোতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকায় হেলিকপ্টার থেকে তাঁবু, খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও সেতুর কারণে দুর্গত এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ায় আকাশপথে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। 

এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারক করতে বৃহস্পতিবার তিব্বতে পৌঁছেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।

কীভাবে এ ভয়াবহ বন্যা

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিলো, ভূমিকম্পের কারণে হিমবাহের নিচের অংশ ধসে গিয়ে আকস্মিক এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথমে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত হওয়া কম্পনটি আসলে হিমবাহের পাথর ও বরফ ধসে পড়ার ফলে সৃষ্ট ভূকম্পন ছিলো। এরপরই বিশাল ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসে। 

স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বরফ ও পাথরের একটি ভূমিধস লেহেন্দে নদীতে বিপুল ধ্বংসাবশেষসহ পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি করে। এতে নদীতীরের বাড়িঘর, গাছপালা ও যানবাহন কাদায় চাপা পড়ে এবং প্রবল স্রোতে সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ভেসে যায়। 

নতুন করে বন্যার শঙ্কা

দুর্যোগের পর সীমান্ত এলাকায় একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে তৈরি হওয়া ওই হ্রদের পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় সেটি ভেঙে গেলে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

এদিকে, বন্যার পানি গণ্ডক নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভারতের বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ভয়াবহ এ দুর্যোগে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের বহু গ্রাম, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনও কাদার নিচে ও ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

২৫ টাকা ইউনিটের বিদ্যুতে মিলবে সাত সুবিধা
গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে ৩ বিল
নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করেছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মির্জা ফখরুলকে পুতিনের অভিনন্দন
সেপ্টেম্বরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল: সিইসি
সংসদে তোপের মুখে বক্তব্য উইথড্র করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সিংহাসনফেরত বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন পোলার্ড
মক্কায় গিয়ে তরুণদের যে বার্তা দিলেন রাখি সাওয়ন্ত
বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী
নেপালে মৃত্যু ছাড়ালো ৩৯০, নিখোঁজ ১৪০০
ফ্রি হেলথ ক্যাম্পে ২০০ সদস্যকে সেবা দিলো সিজেএফডি
সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট
ধর্ষণের আলামত মেলেনি, শ্বাসরোধেই চারজনকে হত্যা
আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীন
হড়পা বান ও ভূমিধসে নেপালে নিহত ২৮৯, নিখোঁজ ৮২৬