ডিবি কার্যালয়ে সেদিন কী ঘটেছিলো, জানালেন সারজিস
২০২৪ সালের গণআন্দোলনের সময় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেয়ার পর নিজেদের ওপর চালানো মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে ও হাসনাত আবদুল্লাহকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। পরে তাদের দুজনকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আলাদা কক্ষে রাখা হয়।
সারজিস আলমের দাবি, ডিবি কার্যালয়ে আলাদা কক্ষে আটকে রেখে তাদের ওপর চরম মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ২৪ ঘণ্টা বাথরুমের দরজার সামনে একটি চেয়ারে বসিয়ে রাখা হতো। ঘুমানোর সুযোগও দেয়া হতো না।
তিনি আরও বলেন, শুধু তাদের নয়, পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ভয় দেখানো হতো। পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার মতো হুমকি দিয়ে তাদের মানসিকভাবে চাপে রাখা হয়েছিলো।
ডিবি কার্যালয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ভিডিও ধারণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সারজিস। তার ভাষ্য, তৎকালীন ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ তাদের হাতে একটি লিখিত স্ক্রিপ্ট দিয়ে সেটি পড়ে শোনাতে বলেন।
সারজিস জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং কোনওভাবে ডিবি কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসার তাগিদে নাহিদ ইসলাম প্রথমে ওই স্ক্রিপ্ট পড়তে সম্মত হন। পরে তাদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয়।
সারজিস আলম বলেন, আন্দোলনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে কয়েক লাইনের একটি লেখা পড়িয়ে যে নাটক সাজানো হয়েছিলো, তা সাধারণ মানুষ খুব দ্রুতই বুঝে ফেলেছিলেন। জনগণ বুঝতে পেরেছিল, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে নয়, বরং ভয়ভীতি ও চাপের মুখে তাদের দিয়ে ওই বক্তব্য আদায় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে ধারণ করা সে ভিডিওর পেছনের বাস্তবতা আন্দোলনকারীদের কাছে স্পষ্ট ছিলো। বাইরে থাকা মানুষও পরিস্থিতি দেখে বুঝতে পেরেছিলেন যে ওই বক্তব্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেয়া হয়নি।
সবার দেশ/কেএম




























