শিক্ষকদের পেনশন ৩ মাসে দেয়ার দাবি আখতারের
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পেনশনের অর্থ সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য পৃথক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘শিক্ষকদের সামাজিক সুরক্ষা ও প্রভাবমুক্ত শিক্ষাঙ্গণ গড়তে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, চাকরিজীবনে শিক্ষকদের বেতন থেকে নিয়মিত অর্থ কেটে রাখা হয় এবং চাকরির মেয়াদ শেষে তারা পেনশন পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু অবসর নেয়ার পর অনেক শিক্ষককে পেনশনের অর্থ পেতে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ দীর্ঘসূত্রতা দূর করে সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে পেনশনের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি বলেন, পেনশনের টাকা পাবেন—এটা নিশ্চিত। তারা তো চাকরি করেছেন, তাদের বেতন থেকে একটা অংশ কেটে রাখা হয়েছে। একজন মানুষ চাকরির সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে পেনশনের টাকার জন্য পাঁচ থেকে ছয় বছর অপেক্ষা করবেন, এটা হতে পারে না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, যারা পেনশনে যাবেন, তাদের টাকা তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বুঝিয়ে দিতে হবে।
শিক্ষকদের সামাজিক ও পেশাগত নিরাপত্তার বিষয়েও গুরুত্ব দেন এনসিপির এ নেতা। তিনি শিক্ষকদের জন্য পৃথক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
আখতার হোসেন আরও বলেন, শিক্ষকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেয়া হবে না। শিক্ষকদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের ওপর কোনও ধরনের অযাচিত চাপ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষক সমাজকে বৈষম্য, অনিশ্চয়তা ও আর্থিক অনিরাপত্তার মধ্যে রেখে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গণকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বলেন, শিক্ষক সমাজ নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে না পারলে তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও অধিকার আদায় করা কঠিন হবে। শিক্ষকদের উন্নয়ন ও কল্যাণে সরকারকে বিশেষভাবে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় শিক্ষক সমাজের সামাজিক নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা, পেনশন ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা এবং শিক্ষাঙ্গণে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
সবার দেশ/কেএম




























