‘ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন’ লুটপাটকারীদের পুনর্বাসনের পথ খুলে দিচ্ছে: আখতার
ব্যাংক খাতের বিতর্কিত ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন আখতার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের অর্থনীতিকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়া ব্যক্তিদের হাতেই নতুন আইনের মাধ্যমে আবারও ব্যাংকের মালিকানা ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আখতার হোসেন। সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় শ্রমিক শক্তি, যা জাতীয় নাগরিক পার্টির শ্রমিক সংগঠন।
‘মে দিবসের অঙ্গীকার: ন্যায্য মজুরি, মর্যাদা ও অংশীদারত্বের অধিকার’—এ স্লোগানে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও এমনভাবে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস করা হয়েছে, যাতে লুটপাটকারীরা পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা ফিরে পায়। এ আত্মঘাতী আইনের কারণে দেশের অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংক খাত ধ্বংসের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আমানতও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। তার ভাষায়, যাদের কারণে অর্থনীতি আজ খাদের কিনারায়, তাদেরই আবারও ক্ষমতায় বসানোর আয়োজন চলছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন আবদুল হান্নান মাসউদ, যিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সংসদে শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে বেশি।
নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি শ্রমিক পরিবারের সন্তান, আখতার হোসেন কৃষকের সন্তান এবং হাসনাত আবদুল্লাহ রাজমিস্ত্রির সন্তান। এমনকি বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও শ্রমিক পরিবারের সন্তান।
ক্ষমতায় যাওয়ার আগে শ্রমিক-কৃষক-ছাত্রদের ব্যবহার করা হলেও পরে শাসকগোষ্ঠী বড় পুঁজিপতিদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে বলেও অভিযোগ করেন আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, এস আলমদের মতো গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীলতার এ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলাতে হবে।
সমাবেশে রিয়াজ মোর্শেদ, যিনি জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব, শ্রমিক অধিকার নিয়ে একটি কৌশলপত্র উপস্থাপন করেন। সেখানে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শ্রমিকের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, যৌথ শ্রমে অর্জিত মুনাফার অন্তত ৫ শতাংশ শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন, সংসদে অন্তত ৫ শতাংশ শ্রমিকের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং চাকরি ও জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ‘স্যালুট’ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় আসা রিকশাচালক সুজন। তিনি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি না বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এছাড়া সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ‘তুই’ বলে সম্বোধন বন্ধ, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করা এবং নারী শ্রমিকদের জন্য ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটির দাবিও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাজহারুল ইসলাম ফকির, যিনি জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক। সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও এর অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সবার দেশ/কেএম




























