Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০০:৩২, ৩ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস নিয়ে হাসনাতের প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস নিয়ে হাসনাতের প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, সম্পদের পরিমাণ ও এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে তিনি সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

হাসনাতের পোস্টে দাবি করা হয়, ২০০৭ সালে এক কোটি টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছিলো। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার একটি বিশেষ আদালত ওই মামলায় তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, এক কোটি টাকা জরিমানা এবং ঘুষ হিসেবে নেয়া অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

হাসনাত আরও দাবি করেন, অবৈধভাবে চার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে আরেকটি দুর্নীতি মামলা হয় এবং ওই মামলায় ১৩ বছরের সাজা হয়েছিলো। পাশাপাশি চকরিয়ায় মাছের ঘের-সংক্রান্ত দুটি মামলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এসব মামলার কয়েকটি থেকে পরবর্তী সময়ে সালাহউদ্দিন আহমদ খালাস পেয়েছেন বলে হাসনাত তার পোস্টে দাবি করেন। এসব অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার পোস্টে নির্বাচনী হলফনামার তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার স্ত্রী হাসিনা আহমদের মোট সম্পদ ছিল ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে তা বেড়ে ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে প্রায় ৩০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য জমা দেয়া হলফনামা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সালাহউদ্দিন আহমদের নিজের প্রদর্শিত সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৬ টাকা এবং তার স্ত্রী হাসিনা আহমদের সম্পদ প্রায় ১২ কোটি ১৯ লাখ টাকা বলা হয়েছে। অর্থাৎ দুজনের মোট প্রদর্শিত সম্পদ প্রায় ৩০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সালাহউদ্দিন আহমদের বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা। এর মধ্যে জমি বিক্রি থেকে মূলধনী আয়, কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানী, কৃষি, ব্যবসা ও সম্পত্তির ভাড়া থেকে আয় রয়েছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদের গুলশানের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর আগে গুলশানের প্লাটিনাম রেসিডেন্সে একটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হন সালাহউদ্দিন। গুলশানে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও আলোচনা আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদের পেশাগত জীবন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন হাসনাত। তার ভাষ্য অনুযায়ী,

সালাহউদ্দিন ১৯৮৫ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন এবং ১৯৯৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। চাকরি ছাড়ার সময় তার মাসিক বেতন-ভাতা প্রায় ছয় হাজার টাকা ছিলো দাবি করে হাসনাত প্রশ্ন করেন, সে সময়ের আয়ের সঙ্গে গুলশানে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের বিষয়টি কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ প্রসঙ্গে বর্তমান নির্বাচনী হলফনামায় অবশ্য সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেকে আইনজীবী ও ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার প্রদর্শিত সম্পদের মধ্যে গুলশানে একটি ফ্ল্যাট, কৃষি ও অকৃষি জমি, পেকুয়ায় বাড়ি এবং ব্যবসায়িক সম্পদ রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদের সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত। তার দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে সন্তানদের পড়াশোনার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। ওই অর্থের উৎস কী এবং তা কীভাবে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা থেকে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষিত আয়, সম্পদ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা জনস্বার্থে খতিয়ে দেখা দরকার।

একই পোস্টে সরকারের সমালোচকদের ব্যাংক হিসাব তলবের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এ নেতা। তার বক্তব্য, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে একই নীতি সব এমপি ও মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা উচিত।

পোস্টের শেষ অংশে হাসনাত লিখেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: এ বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, এবং তার পক্ষে কি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব রয়েছে? সুতরাং স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক। আমাকে দি‌য়ে তা শুরু হোক। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব তারা নিজেরাই প্রকাশ করে গেছেন। দেখি, সরকারি এসব প্রতিষ্ঠান সেই সৎ সাহস দেখাতে পারে কি না!

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

নেতানিয়াহু-আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ‘বিমান ছিনতাই নাটক’
রাশিয়া থেকে এলো ইউরেনিয়াম, ভোরে রূপপুরের পথে
বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি : ইন্টারনেট বন্ধ, আটক সাতশ
ডেঙ্গুতে ৯ মাসে ২৫০ মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে ভয়াবহ চিত্র
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস নিয়ে হাসনাতের প্রশ্ন
বাবার দাফনে ছিলেন মোজতবা খামেনি, দাবি শাশুড়ির
মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে কটিয়াদীতে বিক্ষোভ
ইরান ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক প্রস্তুতি, বাড়ছে সেনা
চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত ট্রেনের বগিতে আগুন
তৌফিক খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির শোক
আখতারুজ্জামানের অবিলম্বে মুক্তি চাইলেন জামায়াত আমির
এশিয়ান গেমসে মেঘনার সন্তান সাত্তারের দাপট
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেফতার, থানায় হস্তান্তর
সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই
জুলাই জাদুঘরে যাচ্ছে আশুলিয়ায় ৬ লাশ পোড়ানোয় ব্যবহৃত পুলিশ ভ্যান
হোটেল বন্ধ, ভাড়া দ্বিগুণ—কোলকাতায় বিপাকে বাংলাদেশিরা
গুপ্ত-স্বৈরাচার আবার একসঙ্গে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
ভারতে উজ্জয়িনীর মসজিদে বুলডোজার, উত্তেজনা চরমে