Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৪২, ৪ মার্চ ২০২৬

সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অর্ধেক মানুষই বাইরে, আইন যুগোপযোগীকরণ জরুরি

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে অর্ধেক মানুষই বাইরে, আইন যুগোপযোগীকরণ জরুরি
ছবি: সবার দেশ

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নিম্নহার নাগরিক অধিকার সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনাকে গুরুতরভাবে ব্যাহত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, বিদ্যমান জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন যুগোপযোগী করে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি।

রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালায় এসব মতামত উঠে আসে। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) আয়োজন করে এ কর্মশালার, সহযোগিতায় ছিলো গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)। ৩ ও ৪ মার্চ অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ৩২ জন সাংবাদিক অংশ নেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে বর্তমানে জন্ম নিবন্ধনের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিদিন হাজারো মানুষের জন্ম ও মৃত্যু ঘটলেও তাদের প্রায় অর্ধেক রাষ্ট্রীয় নথিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না। ফলে বিপুলসংখ্যক নাগরিক কার্যত রাষ্ট্রের হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নাগরিকের আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উত্তরাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা ও ভোটাধিকারের মতো মৌলিক অধিকার ভোগের অন্যতম পূর্বশর্ত। নিবন্ধনবিহীন ব্যক্তি বাস্তবে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অদৃশ্য হয়ে পড়েন। এতে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, মানবপাচার ও বৈষম্যের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণ ব্যাহত হয়।

বর্তমান আইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব প্রধানত পরিবারের ওপর ন্যস্ত। তবে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এ দায়িত্ব বাধ্যতামূলক করা হয়নি। অথচ দেশে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শিশুর জন্ম এখন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হয়ে থাকে। স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধন ব্যবস্থা না থাকায় বহু জন্ম নিবন্ধনের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, ভুটান এবং শ্রীলঙ্কা স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে প্রায় শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। বক্তারা মনে করেন, বাংলাদেশেও একই ধরনের সংস্কার জরুরি।

কর্মশালায় ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস-এর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, 

শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হলে শুধু আইন সংস্কার নয়, তার কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

জিএইচএআই বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিবন্ধনের দায়িত্ব অর্পণ করলে জাতিসংঘের আঞ্চলিক সংস্থা ইউএনএসকাপ-এর শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি ১৬.৯ অনুযায়ী সবার জন্য বৈধ পরিচয় নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে।

দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, 

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন সংস্কারকে জাতীয় অগ্রাধিকার পর্যায়ে নিতে হলে গণমাধ্যমকে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার কর্মসূচি প্রধান হাসান শাহরিয়ার ও কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আইন সংস্কার ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হবে।

সবার দেশ কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা: ওয়াশিংটন পোস্ট
খুলনায় শ্রমিক দল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
ইবির সহযোগী অধ্যাপককে গলা কেটে হত্যা
ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বহর
ইরানের ‘ফাত্তাহ-২’ ঠেকানো প্রায় অসম্ভব
ইরানের ‘ব্যয় চাপিয়ে দেয়া’ খেলায় ধরাশায়ী ট্রাম্প-নেতানিয়াহু
ময়লার বিল ১০০ টাকার বেশি নিলেই ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসকের হুঁশিয়ারি
১০ চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত বিএমডিসির
‘যুক্তরাষ্ট্রের দাস হবো না’—স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা
এক টাকারও দুর্নীতি করিনি: আসিফ নজরুল
ছাত্রদলের আহ্বায়ক হামিমকে সাময়িক অব্যাহতি
হিসাবের খাতা খুলে দিলেন আসিফ মাহমুদ
খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত, অতিরিক্ত ভিড়ের আশঙ্কা
আরও একটি মার্কিন এফ-১৫ ভূপাতিত করলো ইরান