দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী অনুমোদনে প্রজ্ঞা-আত্মা’র অভিনন্দন
ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি-টোবাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)।
‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন পাওয়ায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠন দুটি। একই সঙ্গে তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশটি গেজেট আকারে প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রজ্ঞা ও আত্মা জানায়, অধ্যাদেশটির অনুমোদন তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন। এটি বাস্তবায়িত হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে এবং তামাকজনিত রোগ ও মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অধ্যাদেশটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি। গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলে তামাক কোম্পানিগুলোর হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়বে। অতীতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনকে ঘিরে কোম্পানিগুলোর নানা ধরনের চাপ ও প্রভাব বিস্তারের নজির রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তামাক ব্যবহারজনিত বিভিন্ন রোগে দেশে প্রতিবছর এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে। ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ ও ফুসফুসের জটিলতাসহ নানা অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনওভাবে তামাক ব্যবহার করছে।
গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি হয়, যা একই সময়ে তামাক খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। এ ক্ষতির ভার শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয় রাষ্ট্র ও সাধারণ মানুষকে।
তামাকের ব্যবহার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বিদ্যমান আইন আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশোধিত অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করে। প্রজ্ঞা ও আত্মা মনে করে, অধ্যাদেশটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ ও পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হলে তামাকজনিত মৃত্যু ও রোগ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। পাশাপাশি এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আওতায় অসংক্রামক রোগে মৃত্যুহার এক-তৃতীয়াংশ কমানোর জাতীয় ও বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংগঠন দুটি আশা প্রকাশ করেছে, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
সবার দেশ/কেএম




























