ছিনতাইকারীর টানাহেঁচড়ায় রিকশা থেকে পড়ে আহত নারীর মৃত্যু
রাজধানীতে ছিনতাইকারীর টানাহেঁচড়ার শিকার হয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার চার দিন পর এক চাকরিজীবী নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সোহেলি ইসলাম মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার হন।
গত রোববার ভোরে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান।
স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন সোহেলি ইসলাম। গাবতলীতে বাস থেকে নেমে রিকশাযোগে বাসায় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় ছিনতাইকারীরা ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করলে ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি। এতে তার ডান হাত ভেঙে যায় এবং মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে। আঘাতের ফলে কান দিয়ে রক্তক্ষরণও শুরু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহেলি ইসলামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি এসকেএফ ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঢাকার ধানমন্ডির গ্রীন রোড এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন আগে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন সোহেলি। অনুষ্ঠান শেষে শনিবার রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রোববার ভোরে গাবতলীতে পৌঁছান। সেখান থেকে বাসায় ফেরার পথেই ঘটে এ দুর্ঘটনা।
সোহেলির বোনের স্বামী তরিকুল ইসলাম জানান, আহত হওয়ার পর অনেকের কাছে সাহায্য চাওয়া হলেও প্রথম দিকে কেউ এগিয়ে আসেননি। পরে এক রিকশাচালক ও একজন পথচারীর সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হয়। তখন তিনি কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, শোকাহত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
রাজধানীতে ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক কর্মজীবী নারীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোরবেলা গণপরিবহন থেকে নেমে বাসায় ফেরার পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবার দেশ/কেএম




























