চিরকুটে টাকার হিসাব, সম্পর্কের ইঙ্গিত
ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে শিক্ষক-সহপাঠী হেফাজতে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে একটি চিরকুট। ওই চিরকুটে টাকার লেনদেন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে, যার জেরে ইতোমধ্যে এক শিক্ষক ও ঘনিষ্ঠ এক সহপাঠীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
নিহত মুনিরা মাহজাবিন মিমো, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিমোর লাশের পাশ থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেখানে লেখা ছিলো,
সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থেকো। স্যারের দেয়া গিফটগুলো ফেরত দেয়া…
এমন অসমাপ্ত কিছু বাক্য, যা পুরো ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।
গুলশান জোনের (বাড্ডা) অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো গুরুত্বসহকারে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এসব আলামতের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক শিক্ষককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহত শিক্ষার্থীর এক ঘনিষ্ঠ সহপাঠীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, খবর পেয়ে বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে যান এবং মিমোর মোবাইল ফোনের কিছু তথ্য পর্যালোচনা করেন। সেখানে এক শিক্ষকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে শিক্ষার্থী মহলে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এটি নিছক আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও চাপ, সম্পর্ক বা লেনদেনের জটিলতা—তা এখন তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে।
সবার দেশ/কেএম




























