বর্ণনায় উঠে এলো নিরাপত্তা বাহিনীর বর্বরতা
দিল্লির বিক্ষোভ যেনো আরেক জুলাই বিপ্লব
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
সংসদ স্ট্রিট, কনট প্লেস এবং বিশেষ করে প্যাটেল চৌক মেট্রো স্টেশন এলাকায় সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক টিয়ারগ্যাস শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় কিছু বিক্ষোভকারী কাঁচ ও প্লাস্টিকের বোতল নিক্ষেপ করেন।

নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে হাজারো শিক্ষার্থী ও সমর্থক কনট প্লেস থেকে জনপথ হয়ে সংসদ মার্গের দিকে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে সংসদ মার্গের প্রবেশমুখে আগে থেকেই ব্যারিকেড বসিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ।
সংঘর্ষে বহু বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়ার সময় আহত এক আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কি পশু? কেনো আমাদের এভাবে মারছে? আমরা কি সন্ত্রাসী? আরেকজনের অভিযোগ, কোনও কারণ ছাড়াই আমাদের ওপর নির্মমভাবে লাঠিচার্জ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) দাবি করেছে, তাদের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতা রোভিনের বাম হাত ভেঙে গেছে। এছাড়া আরও কয়েকজন কর্মী ঘাড়, পিঠ, হাত ও পায়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। সংগঠনটির অভিযোগ, এক শিক্ষার্থীর কাঁধ গুরুতরভাবে জখম হয়েছে এবং নারী বিক্ষোভকারীদের ওপরও পুরুষ পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করেছেন।
টিয়ারগ্যাসে আক্রান্ত এক বিক্ষোভকারী বলেন, সকাল থেকে তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। চারদিকে ব্যারিকেড থাকায় নিরাপদে সরে যাওয়ার পথও ছিলো না। অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, নিরাপদে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও পুলিশ সহযোগিতা না করে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। পরে অনেকে নিজেদের রক্ষায় রাস্তার পাশে থাকা যানবাহনের আড়ালে আশ্রয় নেন।

ঘটনার পরসোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক পোস্টে সিজেপি প্রশ্ন তোলে, এটি কি যুদ্ধক্ষেত্র? শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর কেন টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে? দলটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে আরও লিখেছে, আপনি কি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে আমরা আর গণতন্ত্রে বাস করছি না? এক মাস ধরে সরকার এ আন্দোলন উপেক্ষা করেছে, আর এখন আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিরোধী নেতারাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরে বলেন, যখন একটি সরকার উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের দিকে অস্ত্র তাক করে, তখন বোঝা যায় সে সরকার তরুণদের বিরোধী। তিনি আরও দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও মুখপাত্র রাজীব রঞ্জন এক বিবৃতিতে বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে এবং কোনও ধরনের সহিংসতা বা বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের আইনসম্মত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, এ বিক্ষোভের পেছনে নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান আন্দোলন রয়েছে।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
সবার দেশ/কেএম




























