বর-কনের বিয়েযাত্রা শেষ হলো মৃত্যুযাত্রায়
বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নবদম্পতিসহ অন্তত ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিহতদের মধ্যে বর সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক এবং কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু) রয়েছেন। এছাড়া কনের বোন, নানি ও মাইক্রোবাসচালকসহ আরও কয়েকজন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলাইব্রিজ এলাকায় দ্রুতগতিতে আসা একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং অনেকে গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের মামা আবু তাহের জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা এলাকায় তার ভাগ্নি মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আ. রাজ্জাকের ছেলে সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বরযাত্রীদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে নবদম্পতি মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, দুর্ঘটনায় মার্জিয়া আক্তার, তার বোন লামিয়া ও তাদের নানি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া বরের সঙ্গে থাকা আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন <<>> বাগেরহাটে বাস–মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১৩, আহত ১৫
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক কে এম হাসানুজ্জামান জানান, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী একটি বাস খুলনার দিকে যাচ্ছিলো এবং মাইক্রোবাসটি মোংলার দিকে যাচ্ছিলো। বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, এ পর্যন্ত হাসপাতালে আটজনের মরদেহ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি থাকা আরও একজন পরে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নবদম্পতির বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের মাতমে।
সবার দেশ/কেএম




























