এক মাসের মধ্যে পরিবর্তনের নির্দেশ হাইকোর্টের
মেট্রোরেলের ৪ পিলারের বিয়ারিং প্যাড ঝুঁকিতে
ঢাকা মেট্রোরেলের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পিলারের বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পিলার ও উড়ালপথের (ভায়াডাক্ট) বিমে দেখা দেয়া ফাটল মেরামতসহ জরুরি নিরাপত্তামূলক কাজ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ নির্দেশ দেয়া হয়। রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, গত সপ্তাহে আদালতে জমা দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বা জরুরি পদক্ষেপগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ রয়েছে।
প্রতিবেদনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪৪৮ নম্বর পিলারের বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া যেসব পিলারে কাঠামোগত ত্রুটি বা ফাটল রয়েছে, সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখার পাশাপাশি দেবে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ কমিটি উড়ালপথের বিমে দেখা দেয়া ফাটলের কারণ অনুসন্ধান করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত মেরামতের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে স্টেশন ও বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পানি প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, বন্ধ হয়ে থাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়মিত রেললাইন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেসব ট্রেনের চাকায় ত্রুটি বা ফাটল রয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেয়া যাবে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান, ঠিকাদারদের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করা এবং জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশনার পর বুধবার ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, আদালতের সুপারিশ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে নয় সদস্যের একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ডিএমটিসিএল জানায়, এই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত আটটি স্বল্পমেয়াদি, ১০টি মধ্যমেয়াদি, ১০টি দীর্ঘমেয়াদি এবং ছয়টি কৌশলগত সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি তদারকি করবে। বাস্তবায়ন অগ্রগতির প্রতিবেদন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মাধ্যমে হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে আবুল কালাম নামে এক পথচারীর মৃত্যু হয়। এর এক বছর আগেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে হাইকোর্টে পৃথক রিট আবেদন করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য ড. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে মেট্রোরেলের কাঠামোগত সক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিরীক্ষার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ারিং প্যাড হলো রাবার ও ইস্পাতের সমন্বয়ে তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত উপাদান, যা পিলারের ওপর স্থাপিত উড়ালপথের কংক্রিট বিমকে ধারণ করে। এটি ট্রেন চলাচলের সময় সৃষ্ট কম্পন শোষণ, কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষা, ঘর্ষণ কমানো এবং স্থানচ্যুতি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব প্যাড ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো মেট্রোরেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























