চট্টগ্রামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা
২ কোটি টাকা চাঁদা না দেয়ায় ভাঙচুর-লুট
চট্টগ্রাম নগরের চকবাজারে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্য দিবালোকে সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দেয়া ডেবিট ইমন ফোনে দুই কোটি টাকা চাঁদা ও মাসিক ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। সে দাবি প্রত্যাখ্যান করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে নগরের চকবাজারের এক্সেস রোডে অবস্থিত ডিডিএন (DDN) নামের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল মুখোশধারী হামলাকারী ঢুকে কয়েক মিনিট ধরে ভাঙচুর চালায়। হামলাকারীদের কারও হাতে চাইনিজ কুড়াল, হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র ছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য অফিসে রাখা ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পুরো হামলার ঘটনা মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ঘটিয়ে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন অভিযোগ করেন, ঘটনার দুই দিন আগে বিদেশি একটি নম্বর থেকে ডেবিট ইমন পরিচয়ে একজন তাকে ফোন করেন। ফোনে ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাইলে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অন্যথায় ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।
তার দাবি, ফোনে হুমকিদাতা নিজেকে সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য পরিচয় দিয়ে বলেন, চট্টগ্রামের সব বড় ব্যবসায়ী তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই ব্যবসা করেন। এমনকি পুলিশ কমিশনারের কাছেও তার পরিচয় সম্পর্কে খোঁজ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। দুই দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয় এবং এরপরই হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের ফোনালাপে ডেবিট ইমন দাবি করেন, তারা এখন চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাতের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং তাদের অনুমতি ছাড়া কেউ ব্যবসা চালাতে পারবেন না। তিনি আরও হুমকি দেন, দাবি অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করলে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে।
ঘটনার পর ডিডিএনের পক্ষ থেকে চকবাজার থানায় মামলা করতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রিদোয়ানুল কবির বলেন, সংঘবদ্ধভাবে অফিসে ঢুকে হামলাকারীরা কম্পিউটার, মনিটর, নেটওয়ার্ক ডিভাইস, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ধ্বংস করে। পরে কর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অফিস থেকে বের করে দিয়ে নগদ ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান প্রমাণিক বলেন, হুমকির অডিও, হামলার ভিডিওসহ সব তথ্য-উপাত্ত পুলিশ সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর হোসেন মামুন বলেন, হামলায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে নগরের ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এমন হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেবিট ইমনের প্রকৃত নাম মোবারক হোসেন। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, মোবারক হোসেন ওরফে ডেবিট ইমন একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার আসামি। অতীতে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি এবং স্মার্ট গ্রুপের পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া তার নেতৃত্বে চট্টগ্রামে অর্ধশতাধিক অস্ত্রধারী সহযোগী সক্রিয় রয়েছে বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
সবার দেশ/কেএম




























