দায় এড়াতে দোষারোপের পাল্টাপাল্টি
অন্ধকারে ভবিষ্যৎ—রংপুরে মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শত শত শিক্ষার্থীকে মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে, আর প্রশাসনের ভেতরে শুরু হয়েছে দায় এড়ানোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষার দিন সকালে মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে শুরু থেকেই বিদ্যুৎ ছিলো না। ওই কেন্দ্রে ১৭টি কক্ষে মোট ৮৫৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ঠিকভাবে প্রশ্নপত্র পড়তে এবং উত্তর লিখতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। শেষ পর্যন্ত বড় মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা নেয়া হয়, যা আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক বিব্রতকর চিত্র হিসেবেই দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রসচিব ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম দাবি করেন, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকার কথা থাকলেও তা নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। পরে আকস্মিক ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে, তখন বাধ্য হয়েই মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা চালাতে হয়।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১–এর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন খান জানান, কেন্দ্রটি বলদিপুকুর সাবস্টেশন হয়ে রংপুর গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত। সংশ্লিষ্ট লাইনে আগুন লাগার কারণে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, বিকল্প হিসেবে শঠিবাড়ী গ্রিড থেকে সংযোগ দেয়ার চেষ্টা চলছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ সরাসরি কেন্দ্রসচিবের গাফিলতির দিকেই আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি আগে থেকে তাকে জানানো হয়নি। আগাম তথ্য পেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হতো। পরে ঘটনা জানার পর তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ইউএনও আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে এলইডি লাইট, চার্জার লাইট ও পর্যাপ্ত মোমবাতির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি শুধু একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রস্তুতির ঘাটতি ও সমন্বয়হীনতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুৎ, প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব যে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে—মিঠাপুকুরের এ ঘটনাই তার বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
সবার দেশ/কেএম




























