Sobar Desh | সবার দেশ বান্দরবান প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০:৩৪, ১১ মে ২০২৬

আপডেট: ১০:৪৮, ১১ মে ২০২৬

চাঁদাবাজি-আধিপত্যের রক্তক্ষয়ী দ্বন্দ্বে বাড়ছে আতঙ্ক

পাহাড়ে তিন মাসে ৬ খুন: দীঘিনালা-সাজেক সড়কে অবরোধের ডাক

পাহাড়ে তিন মাসে ৬ খুন: দীঘিনালা-সাজেক সড়কে অবরোধের ডাক
ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। গত তিন মাসে পাল্টাপাল্টি হামলা ও গুলিতে অন্তত ৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাহাড়জুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। 

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার (১১ মে) খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে আধাবেলা সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং নিজেদের অবস্থান জানান দিতেই এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সবশেষ গত শনিবার রাঙামাটির সাজেক এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন হেগেরা চাকমা (৪৯)। প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি তাদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এর মাত্র একদিন আগে খাগড়াছড়ির পানছড়ির ইসলামপুর এলাকায় ব্রাশফায়ারে নিহত হন ইমন হোসেন নামে এক যুবক। ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) তাকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে।

পরপর এ দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই সংগঠনই একে অপরকে দায়ী করছে। ফলে পাহাড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে সংঘটিত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে চারটিই ঘটেছে খাগড়াছড়ি জেলায়। গত ৭ মার্চ পানছড়ির বড়কোনা এলাকায় নিহত হন ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ) সদস্য আপন ত্রিপুরা ওরফে সংগ্রাম। এ ঘটনার জন্য জেএসএস (সন্তু লারমা) গ্রুপকে দায়ী করে ইউপিডিএফ।

এরপর ২৭ মার্চ পানছড়ির মাণিক্যপাড়ায় গুলিতে নিহত হন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর উপজেলা সহ-সভাপতি নীতি দত্ত চাকমা। ৮ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলা সদরের আকবারি এলাকায় গুলিতে প্রাণ হারান ইউপিডিএফ সদস্য নিউটন চাকমা। পরে ১৭ এপ্রিল কুতুবছড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন ইউপিডিএফ সমর্থিত যুব ফোরামের সহ-সভাপতি ধর্ম শিং চাকমা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি সূত্রগুলো বলছে, এসব সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে পাহাড়ের বিশাল চাঁদাবাজির অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জনপ্রতিনিধি জানান, বছরে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই মূলত এসব সশস্ত্র সংঘর্ষ চলছে।

তিনি বলেন, এখানে আদর্শিক রাজনীতির চেয়ে অস্ত্র ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের লড়াইটাই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

এদিকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবাধ বিচরণ, গুলিবিনিময় ও টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, যেকোনও সময় নিরীহ মানুষও গোলাগুলির শিকার হতে পারেন।

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান উষ্যেপ্রু মারমা বলেন, সশস্ত্র গ্রুপগুলোর এ খুনোখুনি পাহাড়ের পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলছে। সাধারণ মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতি বিভিন্ন ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। বর্তমানে সেখানে সক্রিয় রয়েছে চারটি প্রধান সংগঠন— সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস, প্রসীত খীসার ইউপিডিএফ, জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। এসব সংগঠনের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যের প্রতিযোগিতাই পাহাড়ের অস্থিরতাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলেছে।

সাজেকে সংগঠনের সদস্য হত্যার ঘটনায় ইউপিডিএফ-এর জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা তৎপর রয়েছে। খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিজানুর রহমান, পিপিএম বলেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সংঘাত ও সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে যৌথ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ২
হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশকে কাঁটাতার উপহার শুভেন্দুর
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় মন্ত্রিত্ব ছাড়তেও প্রস্তুত: ধর্মমন্ত্রী
নেপালে বিমানের চাকায় আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা ২৮৮ আরোহী
ঢাবির সহকারী প্রক্টর পদ ছাড়লেন অধ্যাপক মোনামি
আমতলীতে বজ্রপাতের ভয়াল থাবা, বাড়ছে প্রাণহানি
লেবার পার্টিতে বিদ্রোহ, টালমাটাল স্টারমারের ভবিষ্যৎ
এল ক্লাসিকো জিতে লা লিগা চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা
এনসিপিতে যোগদানকারীদের খতিয়ে দেখতে ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’ গঠন
গর্ভের শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ অসাংবিধানিক
‘ট্রাম্পকে খুশি করতে ইরান প্রস্তাব লেখে না’
নোয়াখালীতে জামায়াত কর্মী গুলিবিদ্ধ
পাহাড়ে তিন মাসে ৬ খুন: দীঘিনালা-সাজেক সড়কে অবরোধের ডাক
২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের ওপর হিজবুল্লাহর ২৪ হামলা
হরমুজে ইরানের ‘ডলফিন’ সাবমেরিন মোতায়েন
হাসিনার পরামর্শে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মমতাকে হারানো হয়েছে: কর্নেল অলি
পুলিশের জন্য ওভারটাইম ভাতা ও বিশেষ পদোন্নতির পরিকল্পনা
হাসিনার দোসরদের ‘দখলচেষ্টা’, সময় টিভি দিয়ে শুরু
নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ইসরায়েল