জ্বালানি সংকটে খাগড়াছড়ি, সাজেক না ঘুরেই ফিরছেন শত শত পর্যটক
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে পাহাড়ে ঘুরতে এসে বিপাকে পড়েছেন খাগড়াছড়িগামী পর্যটক ও বাইকাররা। হঠাৎ দেখা দেয়া জ্বালানি সংকটে সাজেক ভ্যালিতে যাওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়ে অনেকে না ঘুরেই ফিরে যাচ্ছেন।
ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ভ্রমণপিপাসু মানুষ ও বাইকার খাগড়াছড়িতে ভিড় করেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি ঘিরে পর্যটকদের আগ্রহ ছিলো চোখে পড়ার মতো। কিন্তু আকস্মিক জ্বালানি সংকট সে আনন্দে ভাটা ফেলেছে।
সোমবার সকাল থেকে খাগড়াছড়ি শহর ও দীঘিনালা এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের চিত্র দেখা যায়। ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ করা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
সাজেকগামী বাইকারদের মধ্যে হতাশা সবচেয়ে বেশি। অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেও জ্বালানি না পেয়ে গন্তব্যে যেতে পারেননি। বাইকার আরিফ হাসান জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে তার সাজেক যাওয়া সম্ভব হয়নি। তার মতো আরও অনেকেই বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তার মতে, এত বড় উৎসবের সময় পর্যটন এলাকাগুলোতে আগাম পরিকল্পনা করে জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত ছিলো।

খাগড়াছড়ি শহরের একটি ফিলিং স্টেশনের মালিক অসীম নাগ বলেন, ডিপো থেকে নিয়মিত চাহিদার জ্বালানিও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর ঈদের বাড়তি চাপ সামলাতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন আরেক স্টেশন ব্যবস্থাপক প্রবীর কান্তি দাশও।
তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংকট পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলায় জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই, তবে ঈদের কারণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে ফিলিং স্টেশনগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে সংকটের মধ্যেও পর্যটকের ঢল থামেনি। সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, একদিনেই প্রায় দেড় শতাধিক মোটরসাইকেল এবং ৩ হাজারের বেশি পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন।
সব মিলিয়ে, পরিকল্পনার ঘাটতি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় ঈদের আনন্দ ভ্রমণকারীদের জন্য পরিণত হয়েছে দুর্ভোগে। পর্যটননির্ভর এ অঞ্চলের জন্য এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























