মোবাইল চুরি করে সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা খেলেন এসআই
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ফল কিনতে গিয়ে দোকানির মুঠোফোন পকেটে ঢুকিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত এসআইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত এসআই রাসেল মিয়াকে সোমবার (১০ আগস্ট) আজমিরীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত ৮টা ৪৯ মিনিটের দিকে এসআই রাসেল মিয়া আজমিরীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী রাজীব আহমেদের ফলের দোকানে যান। সেখানে তিনি পেয়ারা ও লটকন কেনেন। ফল কেনার পরও কয়েক মিনিট দোকানে অবস্থান করেন তিনি।
এসআই রাসেল চলে যাওয়ার পর রাজীব আহমেদ তার মুঠোফোনটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন তিনি। ফুটেজে মুঠোফোনটি নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পান বলে দাবি করেন রাজীব।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দোকানের টেবিলের ওপর রাজীবের মুঠোফোনটি রাখা ছিলো। একপর্যায়ে এসআই রাসেল তার হাতে থাকা একটি ফাইল ও নিজের লাল রঙের মুঠোফোনটি দোকানির ফোনের ওপর রাখেন। পরে কথা বলার সময় দুটি মুঠোফোনই পকেটে ঢুকিয়ে নেন তিনি।
এরপর হাতে ফলের ব্যাগ নিয়ে আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলেন এসআই রাসেল। পরে সেখান থেকে চলে যান তিনি।
দোকানি রাজীব আহমেদ বলেন, মুঠোফোনের বিষয়ে এসআই রাসেলের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি ফোন নেয়ার কথা অস্বীকার করেন। পরে তাকে সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানানো হয়। এরপর গভীর রাতে রাসেল তার সঙ্গে দেখা করেন এবং মুঠোফোনটি হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান।
রাজীবের ভাষ্য, পরে মুঠোফোনের মূল্য বাবদ তাকে ১৫ হাজার টাকা দেন এসআই রাসেল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই রাসেল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
এদিকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেন ঘটনাটি তদন্ত করেন।
ওসি আকবর হোসেন বলেন, ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর এসআই রাসেল মিয়াকে আজমিরীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের পর এসআই রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে।
সবার দেশ/কেএম




























