দুই দিনে ভারতে রফতানি প্রায় ৬৪ মেট্রিক টন ইলিশ
দেশের বাজারে এক কেজি ইলিশের দাম দুই হাজার টাকার ওপরে। আর ভারতে রফতানি হচ্ছে মাত্র এক হাজার ৫৩৩ টাকা দরে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ইলিশ রফতানি শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে।
ওইদিন ৮টি ট্রাকে ৩৭ টন ৪৬০ কেজি ইলিশ রফতানি হয়। বুধবার ভারতে বিশ্বকর্মা পূজার ছুটিতে আমদানির-রফতানি বন্ধ থাকায় কোন ইলিশ মাছ রফতানি হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৬ টন ৩৫৮ কেজি ইলিশ মাছ রফতানি হয়েছে। এ নিয়ে দুইদিনে বেনাপোল দিয়ে ভারতে রফতানি হলো ৬৩ টন ৮১৮ কেজি ইলিশ। এবার প্রতি কেজি ইলিশ রফতানি হচ্ছে ১২.৫ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি এক হাজার ৫৩৩ টাকা দরে।
ইলিশ মাছ রফতানি নিষিদ্ধ হলেও আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ভারতে মোট এক হাজার ২০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে। এ অনুমতি দেয়া হয়েছে ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ টন, ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ টন করে ৭৫০ টন, ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ টন করে ৩৬০ টন এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ টন করে ৪০ টন ইলিশ রফতানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, পূজার আগে পদ্মার ইলিশ পেয়ে ভারতীয়রা খুশি হলেও রফতানিতে দেশে ইলিশের সঙ্কট দেখিয়ে দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বর্তমানে দেশীয় বাজারে কেজিতে ইলিশের দাম বেড়েছে ৪০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত। বেনাপোল বাজারের মাছের আড়তে পাইকারিতে প্রতি এক কেজি ওজনের ইলিশ এক হাজার ৬৫০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে একই আকারের ইলিশ প্রায় ৫০০/৬০০ টাকা কমে ভারতে রফতানি হচ্ছে। প্রতি কেজি ইলিশ ১২.৫ মার্কিন ডলার রফতানি মূল্য নির্ধারন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়।
বেনাপোল বাজারের জয় মৎস্য ভান্ডারের মালিক বিকাশ দেবনাথ বলেন, স্থানীয় বাজারে যেখানে প্রতি কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার টাকার ওপরে সেখানে ভারতে এক হাজার ৫৩৩ টাকা কেজিতে কীভাবে রফতানি হচ্ছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম আকারের ইলিশ দেড় হাজার টাকা কেজি বিক্রি হয় বলে জানান তিনি।
জানা যায়, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শারদীয় পূজা উৎসব। আর এ পূজা উৎসবে পশ্চিম বাংলার মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় এপারের পদ্মার ইলিশ। সারা বছর ধরে তারা অপেক্ষায় থাকে পূজার সময় বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আসবে, আর তারা অতিথিদের আপ্যায়নে ইলিশের বিভিন্ন রান্না তুলে দেবেন প্লেটে।
বেনাপোলের ওপারে পেট্রাপোলে ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, ভারতে দুর্গাপুজা মানে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখা, প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা আর জমজমাট খাওয়া দাওয়া। ইলিশ ছাড়া বাঙালির খাওয়া দাওয়া যেন পরিপূর্ণ হয় না। আর দুর্গাপূজোর আগেই ভোজনরসিক বাঙালির কাছে সর্বোৎকৃষ্ট মহরত। রেস্তোরা হোক বা বাড়িতে অষ্টমী বা নবমীর দুপুরে সর্ষে ইলিশ, ইলিশ ভাপা বা ইলিশ পাতুরি, ইলিশ বিরিয়ানি দিয়ে লাঞ্চ না করলে পুজার আনন্দ অনেকটাই মাটি হয়ে যায়। স্বাদে গন্ধে পদ্মার ইলিশের জুড়ি মেলা ভার। এবার বাংলাদেশের ইলিশ আসার কারণে পূজায় ইলিশ রসনায় তৃপ্ত হবে বঙ্গ সমাজ এ কথা বলাই বাহুল্য।
বেনাপোল মৎস্য কোয়ারেন্টাইন অফিসার সজিব সাহা জানান, এবার আসন্ন দূর্গাপূজায় ৩৭ টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ১২০০ মেট্রিক টন ইলিশ ভারতে রফতানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। তারই আলোকে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে অনুমোদনকৃত ইলিশ রফতানি শেষ করতে হবে। প্রতিকেজি ইলিশের রফতানি মূল্য ১২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫৩৩ টাকা। প্রতিটি ইলিশের ওজন প্রায় এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজির মধ্যে বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, গত দুই দিনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৬৩ টন ৮১৮ কেজি ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























