মেঘনায় ট্রলারডুবি, নিহত ১ নিখোঁজ ৪
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে রায়েসা বেগম (৪০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও একই পরিবারের বাবা, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ চারজন নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ চারজন হলেন হেলাল উদ্দিন (৫৫), তার ছেলে সজীব (২৪), মেয়ে সামিয়া (১৭) ও সামিন (৫)। তারা কুমিল্লার হোমনা থানা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। একই পরিবারের শিরিন বেগম (৪৫) ও তার আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে হোমনা থেকে আত্মীয়স্বজনসহ ১৪ জন একটি ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া এলাকায় যাচ্ছিলেন। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় হঠাৎ ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ট্রলারে থাকা যাত্রীরা নদীর পানিতে পড়ে যান।
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা আমান কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত সেখানে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। একই সময় রায়েসা বেগমকে পানিতে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের এখানে একজন নারী রোগী আনা হয়েছে। তিনি মারা গেছেন।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী বলেন, আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিস খবর পায় বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের সন্ধানে মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান চলছে। নদীর স্রোত ও পানির গভীরতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উদ্ধারকারীরা তৎপরতা চালাচ্ছেন।
দুর্ঘটনার পর বিয়েবাড়িতে যাওয়ার পথে একই পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজের ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে নদীতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























