উখিয়ায় দা-কিরিচ ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ
পাহাড় কাটায় বাধা, বনকর্মীদের ওপর হামলায় আহত ২
কক্সবাজারের উখিয়ায় সরকারি বনভূমির পাহাড় কাটায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ ও বন বিভাগের কর্মচারী (বন মুন্সি) ইসমাইল আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উখিয়া বন রেঞ্জের থাইংখালী বনবিটের গজোঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উখিয়ার গজোঘোনা এলাকায় সরকারি বনভূমির পাহাড় কেটে ডাম্পারযোগে মাটি পাচার করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে বনকর্মীরা পাহাড় কাটার কাজে বাধা দেন এবং মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেন।
বন বিভাগের অভিযোগ, বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে হামলা
বন বিভাগের অভিযোগ, পাহাড় কাটায় বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা দা, কিরিচ ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ ও বন মুন্সি ইসমাইল আহত হন। হামলার পর তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারি বনভূমি রক্ষায় দায়িত্ব পালনরত বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে।
আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি বন বিভাগের
উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলছে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি বনভূমিতে পাহাড় কাটা বন্ধ ও বনকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনায় কোনও মামলা হয়েছে কি না, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার বা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সবার দেশ/এমকেজে




























