সুদের হার ৭%
বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা
বন্ধ ও আংশিকভাবে চালু থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় পূর্ণ সক্ষমতায় সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সুদে চলতি মূলধনের ঋণ নিতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিম’ শীর্ষক নীতিমালা প্রকাশ করে।
নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। এ ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ, যেখানে বর্তমানে ব্যাংক খাতে গড় সুদের হার ১৪ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে গঠিত এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে অর্থ নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, যেসব বৃহৎ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও চলতি মূলধনের অভাবে পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরতে পারছে না, তারা এ সুবিধার আওতায় আসবে। বিশেষ করে রফতানিমুখী ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
ঋণের অর্থ ব্যবহার করা যাবে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল, কাঁচামাল সংগ্রহসহ উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার কাজে। তবে আগের কোনও ঋণ পরিশোধে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতার ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্টে খেলাপি থাকা যাবে না এবং অর্থ পাচার বা ঋণের অপব্যবহারের ইতিহাস থাকলে তারা এ সুবিধা পাবে না। একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য ঋণ নিতে পারবে, যা নবায়নযোগ্য হতে পারে।
ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো নিয়মিত মনিটরিং করবে এবং তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি তদারকি করতে পারবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেয়া হবে এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঝিমিয়ে পড়া শিল্পখাতে গতি ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ বিশেষ তহবিল চালু করা হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























