তদন্তে নতুন মোড়
১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেফতার
দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষা, হতাশা আর আইনি জটিলতার পর অবশেষে আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বহুদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা এ মামলার অগ্রগতি ও বিচারপ্রক্রিয়া।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন তদন্তের পর এ গ্রেফতারকে মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এ মামলার তদন্ত ইতিহাসও কম জটিল নয়। গত ১০ বছরে অন্তত চারটি সংস্থার সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময়ের মধ্যে মামলার শুনানির জন্য প্রায় ৮০টি তারিখ নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়নি, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ছিলো।
তবে সম্প্রতি তদন্তে নতুন গতি আসে। চলতি মাসের ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে তিনজন সন্দেহভাজনের—সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের—ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার অনুমতি চান। আদালতের নির্দেশনার পরই তদন্তকারীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করেন।
এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিকেল ৫টার দিকে মামলার বাদী ও তনুর পরিবারের সদস্যরা কুমিল্লা আদালতে উপস্থিত হন। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে ঘুরে বেড়ানো তনুর বাবা-মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেনকে এদিন আবেগাপ্লুত দেখা যায়। বর্তমানে আদালতে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে এ প্রথম গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন তনুর পরিবার ও সচেতন মহল। তদন্তকারীদের মতে, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য এবং ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























