ফ্রান্সে গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের ঝলক, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ জয়
ফ্রান্সের বোর্দো শহরে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড (ইজিএমও)-এর ১৫তম আসরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের শিক্ষার্থীরা একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে, যা নারী শিক্ষার্থীদের গণিতচর্চায় নতুন আশার বার্তা দিচ্ছে।
২২ এপ্রিল ২০২৬, প্যারিস থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশ দলের মনামী জামান ১৮ নম্বর পেয়ে রৌপ্য পদক অর্জন করেন। অন্যদিকে সাজি সেহনাই ১৬ নম্বর পেয়ে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মোট স্কোর দাঁড়ায় ৪৫, যার মাধ্যমে দলগতভাবে ৩৪তম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ।
দলের অন্য দুই সদস্য কৃতিকা চক্রবর্তী ও নাহিয়ান পারিন ইফাও প্রতিযোগিতায় সম্ভাবনাময় পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তাদের এ অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপিয়ান গার্লস ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড মূলত উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রীদের জন্য আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম বড় ও মর্যাদাপূর্ণ গণিত প্রতিযোগিতা। ২০১২ সালে মাত্র ১৯টি দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এতে প্রায় ৬০টি দেশ, ২৫০ জন প্রতিযোগী এবং প্রায় ৫০০ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।
আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। আইএমও-তে মেয়েদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম—প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। সে বাস্তবতায় ইজিএমও প্রমাণ করেছে, সুযোগ পেলে গণিতে মেয়েদের মেধা ও সক্ষমতা কোনো অংশেই কম নয়।
২০২৬ সালের এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় ৯ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ফ্রান্সের বোর্দোতে। আয়োজক ছিলো অ্যানিম্যাথ এবং বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ১৯৮৩ সালে প্যারিসে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন করেছিলো ফ্রান্স। দীর্ঘ চার দশক পর দেশটি আবার বড় পরিসরে এমন একটি আন্তর্জাতিক গণিত প্রতিযোগিতা আয়োজন করলো, যা আয়তন ও অংশগ্রহণের দিক থেকে অন্যতম বৃহৎ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের এ অর্জন দেশের গণিতচর্চা এবং নারী শিক্ষার্থীদের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবার দেশ/কেএম




























