জনস্বার্থে গণমাধ্যমে প্রকাশে হাইকোর্টের নির্দেশ
পরিবেশ দূষণকারীদের নাম গোপন রাখার সিদ্ধান্ত বাতিল
পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার পরিবেশ অধিদফতরের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন—ভবিষ্যতে যেকোনও দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পর তাদের নাম জনস্বার্থে গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।
বিচারপতি ফরিদ আহমেদ এবং বিচারপতি মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রায় ঘোষণা করে ২০২২ সালে নেয়া পরিবেশ অধিদফতরের ওই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন। আদালত জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা (রুল অ্যাবসোলিউট) করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। ওই বছর পরিবেশ অধিদফতর সিদ্ধান্ত নেয় যে, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তারা পরিবেশগত আইন লঙ্ঘনের কারণে ব্যবস্থা নেবে, তাদের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে না। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। রিটে দাবি করা হয়, এ সিদ্ধান্ত সংবিধান ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের লঙ্ঘন।
শুনানি শেষে ১৩ জুন ২০২২ তারিখে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়, কেন দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং কেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশের নির্দেশ দেয়া হবে না।
পরবর্তীতে এইচআরপিবির আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৭ নভেম্বর ২০২৫ শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়। ১৯, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর এবং ২, ১০ ও ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ধারাবাহিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত আজ চূড়ান্ত রায় দেন।
রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল। তিনি আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৪(২) ধারা এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৬(১) ধারায় তথ্য প্রকাশের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। অথচ ব্যবসায়ীদের সম্মান রক্ষার অজুহাতে ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর এমন একটি সিদ্ধান্ত নেয়, যা আইনের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদফতরের দায়িত্ব হলো দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং সেই পদক্ষেপ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। কিন্তু নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে।
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে অ্যাডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ আদালতে বলেন, বর্তমানে অধিদফতর দূষণকারীদের নাম প্রকাশ করছে। তবে আদালতের চাওয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সময়কালে নাম প্রকাশের প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
রিট পিটিশনে বিবাদী করা হয় পরিবেশ সচিব, তথ্য সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ মোট পাঁচজনকে। রিট আবেদনটি দায়ের করেন এইচআরপিবির পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী।
আদালতের এ রায়ের ফলে পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার প্রবণতার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন থেকে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হলে, তা প্রকাশ্যে আনতে বাধ্য থাকবে পরিবেশ অধিদফতর—যা জনস্বার্থ ও তথ্য জানার অধিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবার দেশ কেএম




























