বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ
‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে এলে ফ্যামিলি কার্ড দেবো’
নরসিংদীর শিবপুরে এক নারীকে ‘রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে দেখা করলে ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়া হবে’—এমন কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে।
অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
অভিযোগকারী নারী জানান, আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে রাত ১২টার দিকে পুকুরপাড়ে দেখা করতে বলেন। এর বিনিময়ে তাকে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও ওই নেতার কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় সরকার ঘোষিত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশরাফ উদ্দিন আকন্দ। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার দলেরই কিছু লোকের প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে আমার পা ভেঙে যায়। এখনও পুরোপুরি সুস্থ নই। এমন অবস্থায় রাত ১২টায় পুকুরপাড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বিষয়টি সবাই বিবেচনা করবেন বলে আশা করি।
অভিযোগকারী নারীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, তিনি মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের সময় আমার কাছে কাপড় ও চালের স্লিপ চেয়েছিলেন। আমি দিতে পারিনি। এরপর থেকেই আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখেছেন এবং আশরাফ উদ্দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্ররোচনায় মিথ্যা অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সবার দেশ/কেএম




























