Sobar Desh | সবার দেশ মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০০:৩৩, ২৭ জুলাই ২০২৬

চরের দখল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৪০

তিতাস-মেঘনায় ‘টেঁটাযুদ্ধ’ নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ নারীর লাশ উদ্ধার

তিতাস-মেঘনায় ‘টেঁটাযুদ্ধ’ নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ নারীর লাশ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার তিতাস ও মেঘনা উপজেলার সীমান্তবর্তী চর দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ের গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ ‘টেঁটাযুদ্ধে’ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর মেঘনা নদী থেকে ঘাড়ে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা এবং মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও চর বিনতপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিলো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয়দের দাবি, নিহত নারী আলীপুর গ্রামের ট্রলারচালক কাবিল মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৩৫)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে তিতাস উপজেলার চরভাটেরা গ্রামের প্রবাসী মো. শাহবাজ ও মজনু মিয়া ব্যক্তিগত কাজে মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান। সেখানে চর বিনতপুর এলাকার আলী আকবর ও তার সহযোগীরা তাদের মারধর করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খবর পেয়ে চরভাটেরা গ্রামের লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এ ঘটনার জের ধরে বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে আলীপুর ও চর বিনতপুর গ্রামের লোকজন এবং চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র, বিশেষ করে টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে তিতাস উপজেলার ১৫ জন এবং মেঘনা উপজেলার ২৫ জন রয়েছেন।

আহতদের মধ্যে চরভাটেরা গ্রামের বাসিন্দাদের তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আলীপুর ও চর বিনতপুরের আহতদের মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত বিনতপুর গ্রামের স্বপন (২৭), সাগর (৪০) এবং চরভাটেরা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে (৩৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের কিছুক্ষণ পর আলীপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে এক নারীর ভাসমান লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, লাশটির ঘাড়ে একটি টেঁটা বিদ্ধ ছিলো। পরে লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাকে কোহিনুর বেগম হিসেবে শনাক্ত করেন।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, ঘটনার পরপরই ২৫ সদস্যের একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

মেঘনা থানার ওসি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। উদ্ধার হওয়া নারীর লাশ মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মেঘনা নদীর দুই তীরে থাকা তিতাস ও মেঘনা উপজেলার মধ্যবর্তী চরাঞ্চলের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে প্রশাসনিক সীমানা ও চর দখল নিয়ে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা দেখা দেয়। এর আগে গত ১৫ জুনও একই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিলো।

সবার দেশ/কেএম