ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে: হাসনাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের নামে নতুন করে চাঁদাবাজির লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এক পক্ষ ভারতীয় গোলামির অপেক্ষায় রয়েছে, আরেক পক্ষ আজাদির চেতনাকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চায়। এ বিভাজনের মধ্যেই একটি গোষ্ঠী জনগণের টাকা লুটে নিতে চাঁদাবাজির নতুন পদ্ধতি চালু করেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী পথযাত্রা উপলক্ষে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এ এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। আগে যেখানে ১০০ টাকা দিতে হতো, এখন সেখানে ৩০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। গত ১৫ মাসে চাঁদাবাজদের নির্যাতনে অনেক মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে ভয়ে ঘরে বসে থাকতে বাধ্য হয়েছে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ড দেয়ার কথা না বলে আগে এন্টি-চাঁদাবাজি কার্ড চালু করা দরকার। তিনি আরও বলেন, এক পক্ষ শহীদ হাদীকে গিনিপিগ বলছে, অথচ সারাদেশের মানুষ আজ হাদীর মতো হতে চায়।
স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে এনসিপির এ নেতা বলেন, পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী এলাকায় পাথর খনি, কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার কোনx পরিবর্তন হয়নি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি, শ্রমিকদের ভাগ্যও বদলায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে লুটেরা গোষ্ঠী বছরের পর বছর এ অঞ্চলের সম্পদ লুট করেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, এ অঞ্চলের আরেকটি বড় সমস্যা মাদক। রাজনীতিবিদরা বছরের পর বছর অন্যের সন্তানদের নিজেদের অপকর্মে ব্যবহার করে মাদকে জড়িয়ে তাদের জীবন ধ্বংস করেছে। তিনি দিনাজপুরবাসীর উদ্দেশে বলেন, এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু ভোটের দিন নয়, এটি দেশ পরিবর্তনের নির্বাচন। মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—চাঁদাবাজি, লুটতরাজ ও মাদক নাকি দেশ পরিবর্তন।
সমাবেশে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তাহলে তারা আবারও বড় বিপদের মুখে পড়বে। এমন পদক্ষেপ দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে দেখে নেয়া হবে—এমন হুমকি দিয়ে একটি দল ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, বিকল্প পথে কেউ ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে হাসিনার মতো তাদেরও দিল্লি পাঠানো হবে।
সজীব ভূঁইয়া আরও বলেন, দিল্লির সবুজ সংকেতে ফ্যাসিস্টরা আবার ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষ তাদের লাল কার্ড দেখাতে প্রস্তুত। ১১ দলীয় জোট সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
পথযাত্রা ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর-৫ আসনে এনসিপি ও জোট সমর্থিত প্রার্থী ডা. আব্দুল আহাদ। তিনি পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।
সবার দেশ/কেএম




























